লেনিনের মূর্তি ভাঙ্গার পর, এবার লেনিন-স্তালিন কে পাঠ্য পুস্তক থেকে সরাতেউদ্যোগী বিপ্লব।

১০দিক২৪ ব্যুরোঃ গত কাল থেকেই ৪০ বছরের পুরানো, ত্রিপুরার আগরতলা থেকে প্রকাশিত সংবাদপত্র ‘ডেইলি দেশের কথা’ পত্রিকার প্রকাশ বন্ধ হয়ে গেছে। ক্ষমতায় আসার পর ই রাজ্যে বুকে ভেঙ্গে ফেলা হয় লেনিনের মূর্তি, যার জন্য সারা দেশের কাছে নিন্দার মুখে পড়তে হয় বিজেপি কে। কিন্তু আবার সেই পথেই হাঁটল বিজেপি। এবার বিজেপি নেতা তথা ত্রিপুরার মুখ্য মন্ত্রী বিপ্লব দেব পাঠ্য পুস্তক থেকে লেনিন-স্তালিন মুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করলেন।

তিনি একটি সভায় জানান, স্কুল বইয়ে দেশজ নেতার নাম এত কম, তার বদলে রয়েছে সোভিয়েত নেতাদের কাহিনী। খুব তাড়াতাড়িই এ সিলেবাস থেকে তিনি মুক্তি দিতে চান ত্রিপুরার পাঠক্রমকে। তার মতে নতুন সিলেবাসে থাকবে শুধু মাত্র, মহাত্মা গান্ধী, বাল গঙ্গাধর তিলক, সুভাষ চন্দ্র বোস, প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি আব্দুল কালামের মতো দেশীয় নেতাদের ইতিহাস।




গত কাল গান্ধীজির সার্ধশতবর্ষে অনুষ্ঠানে তিনি বলেন “স্কুল-কলেজের সিলেবাস নিশ্চয়ই কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলের তৈরি করা। আজকাল স্কুলপাঠ্যগুলোয় ভারতীয় ইতিহাস সম্বন্ধে প্রায় কিছুই থাকে না। লেনিন-স্তালিন-অবিভক্ত সোভিয়েত রাশিয়া- রুশ বিপ্লব, ইতিহাস জুড়ে শুধুই এসব। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে রাজ্যে এনসিইআরটি পাঠক্রম চালু করতে চলেছে আমাদের সরকার”।

প্রসঙ্গত, কিছু দিন আগেই প্রাক্তন বিজেপি নেতা তথা বর্তমানে ত্রিপুরার রাজ্যপাল তথাগত রায় অভিযোগ করেছিলেন, সে রাজ্যের ইতিহাস বইতে ইতিহাসকে বিকৃত করা হয়েছে, কিছু ইতিহাস চাপাও দেওয়া হয়েছে। এবার সেই ইতিহাস পরিবর্তনের পথেই নামলো বিজেপি।




তবে এই নিয়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে অনেক মহলে। বেশিরভাগ শিক্ষাবিদ রাই মনে করছেন, জানা এবং শেখা কে এভাবে দেশ কাল সীমানার গণ্ডি দিয়ে বেঁধে রাখলে ক্ষতি হবে সমাজের। রাজনৈতিক বিশ্লেষক দের মতে, এর মাধ্যমে সমাজতন্ত্রের সাফল্য সহ, বাম দৃষ্টিভঙ্গি যাতে ছাত্র দের মগজে না পৌছায় তার জন্যই এই উদ্যোগ গ্রহণ করলো বিজেপি। তবে এসব কোথায় কান না দিয়ে, বিজেপি লেনিন-স্তালিন কে পাঠ্য পুস্তক থেকে মুছে ফেলার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।