ত্রিপুরায় NRC কি শুধুমাত্র সস্তা রাজনীতি? বিজেপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ভুলিয়েদেওয়ার কৌশল?

১০দিক২৪, নিজস্ব প্রতিনিধি ত্রিপুরাঃ আসামের মতো ত্রিপুরায় এনআরসি অর্থাৎ জাতীয় নাগরিকপঞ্জি তৈরি করতে সুপ্রিম কোর্টে পিআইএল (PIL) দাখিল করে ত্রিপুরা পিপলস ফ্রন্ট ৷ সোমবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ বিচারপতি এস কে কল এবং বিচারপতি কে এম জোসেফের ডিভিশন বেঞ্চ এই বিষয়ে কেন্দ্রের মতামত জানতে চায়৷ এদিকে এই বিষয়ে দুদিন আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সাফ জানিয়ে দেয়, রাজ্যের করা এনআরসি পুনর্বিবেচনার জন্য কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি৷ অক্টোবর ৪,২০১৮ তারিখে আইএনপিটি দলের সভাপতি বিজয় কুমার রাঙ্খলের নেতৃত্বে এনআরসি ইস্যু নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহের সঙ্গে দেখা করেন ৷

আবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ত্রিপুরার এনআরসি বাস্তবায়নে কোনো প্রকার আশ্বাস দেয়নি এবং এই ব্যাপারে কোনো প্রকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক প্রেস বিবৃতি দিয়ে জানিয়ে দেন৷




এনএসসি যে সস্তা রাজনীতির স্বীকার তা আরো একবার প্রমাণিত যখন স্বরাষ্ট্র দপ্তরের প্রেস বিবৃতি দেওয়ার পর আইন পিটি দলের নেতারা দাবি করে যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ তাঁদের আশ্বাস দেয় যে ত্রিপুরায় এনআরসি চালু করতে উদ্যোগ নেওয়া হবে৷ বিতর্ক বাড়ে এখানেই যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক প্রেস বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলে দেয় যে এই বিষয়ে কোনো প্রকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি এবং কোন প্রকার আশ্বাসও আইএনপিটি প্রতিনিধিদের দেওয়া হয়নি৷ তা হলে কী ভাবে আইন পিটি দলের নেতারা দাবি করেন যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এনআরসি বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছে ৷ এ নিয়ে এক বিতর্ক শুরু হয়েছে৷

ইতিমধ্যে বিতর্ক আরও এক ধাপ বেড়ে যায় যখন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব বলেন আসামে NRC সফল হলে ত্রিপুরাতেও লাগু করা হবে৷

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এই বিষয়ে কোনো প্রকার আশ্বাস এবং সিদ্ধান্ত কোনোটাই দেয়নি৷ বিতর্কের মাত্রা আরও গাঢ় হয় তখন যখন কেন্দ্র ও রাজ্যে একই সরকার থাকতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক ও বিপ্লব দেবের ভিন্ন মত৷ এ কিভাবে সম্ভব? প্রশ্ন জিয়ে রাখছে৷




এনআরসি বিষয়ে রাজনৈতিক ভাবে অভিজ্ঞতা মহলের মত, আসলে এ নিয়ে স্বস্তা রাজনীতি করা হচ্ছে 'তিপরাল্যান্ড'র মতো৷ এ এক আরেকটি ললিপপ লোকসভা নির্বাচন আগে৷ জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করার জন্য এবং নির্বাচন পূর্ব বিজেপির দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভুলে গিয়ে এনআরসি নিয়ে মেতে থাকার সস্তা রাজনীতি খেলা হচ্ছে৷ বর্তমান সরকার কতটুকু প্রতিশ্রুতি পালন করল বা করছে না কেন এ রকম প্রশ্ন থেকে বিরত রাখতেই এনআরসির ব্যবহার করা হয়েছে৷




৩রা মার্চের পর ত্রিপুরাতে খাদ্য ও কাজের ব্যাপক সংকট৷ এ সমস্ত বিষয়ে জনগণ যাতে প্রশ্ন না করতে পারে তাই এনআরসির মতো বিষয়ে হাওয়া দেবার চেষ্টা চলছে৷