বাল্য বিবাহ সম্পূর্ণ বন্ধ করতে করা পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার।

১০দিক২৪ ব্যুরোঃ বাল্যবিবাহ এর প্রচলন ভারতবর্ষে অনেক বেশি হলেও সাধারণত ভারতে এর হার একটু কমেছে বলে ধারণা করা যাচ্ছে এবং বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী এলাকার ত্রিপুরাতে এই বাল্যবিবাহের হার মারাত্মক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। একটি আন্তর্জাতিক সমীক্ষা দ্বারা এই তথ্য পাওয়া গেছে।

ন্যাশনাল ফ্যামিলি হেলথ সার্ভের (এনএফএইচএস) প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে ইয়ং লাইভস নামে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা জানিয়েছে, পনেরো থেকে উনিশ বছরের মেয়েদের বিয়ের নিরিখে ভারতের জাতীয় হার প্রায় বারো শতাংশ। এই সমীক্ষা হয় ২০১৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৬ সালের মার্চ মাসের মধ্যে। পনেরো থেকে উনিশ বছরের মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দেওয়ার সংখ্যা অনেক বেশি এই ত্রিপুরাতে আর গ্রামাঞ্চলে অবস্থা আরো খারাপ মূলত 80% মেয়েদের গ্রামাঞ্চলে বাল্য বয়সে বিয়ে দেয়া দেয়া হচ্ছে। ভারতীয় আইন মতে মেয়েদের আঠেরো বছরের নিচে বিয়ে করা নিষিদ্ধ। ওই সার্ভে দ্বারা জানা গেছে বাহান্ন শতাংশ মেয়ে অন্তত একবার নাবালিকা অবস্থায় গর্ভ ধারণ করেছে এবং পাঁচ শতাংশ নাবালিকা অবস্থায় বেশ কয়েকবার গর্ভ ধারণ করেছে।

এ বিষয়ে ত্রিপুরা শিশু অধিকার রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান নীলিমা ঘোষ বলেন, "১২ বছরের শিশুও গর্ভধারণ করে এ রাজ্যে। হাইকোর্টের রায়ে সেই শিশু গর্ভপাতের সুযোগ পায়। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সেই সুযোগটুকুও পাওয়া যায় না।" তিনি আরো জানান যে গর্ভধারণের সাথে সাথে জড়িয়ে আছে শিশু ও মায়ের স্বাস্থ্যের বিষয়ে তিনি ত্রিপুরার বাল্যবিবাহ আয়ত্তে আনা যথেষ্ট চেষ্টা করছেন। শুধু নিম্নবিত্তদের মধ্যে নয় মধ্যবিত্ত এবং উচ্চবিত্তদের মধ্যে রয়েছে এই কম বয়সে বিয়ে করার প্রবণতা। এবং গর্ভধারণের ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে ষোল থেকে সতেরো বছরের বাল্য নারীরা।

ভারতে ২০১১ সালে আদমশুমারি অনুযায়ী গোটা দেশে ১ কোটি ২১ লাখ কিশোরী বাল্যবিবাহের শিকার। ২০০৫–০৬ সালে বাল্যবিবাহের হার ছিল ১৪ দশমিক ১ শতাংশ। তবে ২০১৫–১৬ সালের সমীক্ষা বলছে, গোটা দেশে সেই হার কিছুটা কমেছে। এই সময়ে ১৫ থেকে ১৯ বছরের কিশোরীদের বিয়ের হার ১১ দশমিক ৯ শতাংশ।অল্প বয়সে বিয়ে করার এই বিষয়টির ওপর কড়া নজর রাখছেন বিশেষজ্ঞরা তারা চেষ্টা করছেন যাতে এই ব্যবস্থা অতি দ্রুত বন্ধ করা যায়।। ছবি (প্রতিকি)