বিয়েতে কত টাকা যৌতুক নেওয়া উচিৎ, জানিয়ে দিচ্ছে যৌতুক ক্যালকুলেটর

যোগ-বিয়োগ-গুণ-ভাগ এসব কাজেই মূলত ক্যালকুলেটর এর ব্যবহার হয়। কিন্তু যৌতুক এর সঠিক মূল্য নির্ধারণের জন্যও যে ক্যালকুলেটর এর ব্যবহার হতে পারে তা হয়ত অতিমানব ছাড়া কারুর পক্ষে বলা সম্ভব না। যৌতুক ক্যালকুলেটর একটি ওয়েবসাইট। এই ওয়েবসাইটটিতে আপনার বৈবাহিক বয়স, জাতি, পেশা, বেতন, শিক্ষাগত যোগ্যতা, আপনার ত্বকের রঙ এবং উচ্চতা সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা করলেই আপনার আনুমানিক যৌতুকের পরিমাণ গণনা করে জানানো হয়।

কংগ্রেস নেতা জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এবং নারী ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ে যৌতুক ক্যালকুলেটর ওয়েব পোর্টালের বিরুদ্ধে টুইট করেছেন , এই ওয়েবসাইটের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেবার জন্য।



সিন্ধিয়া, মধ্য প্রদেশের গুনা থেকে সংসদ সদস্য, একটি ট্যুইটে বলেন, "কেউ এই সাইটে আমার মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন। একেবারে লজ্জাজনক! আমি ডেভেলপারদের মনে করিয়ে দিচ্ছি যে যৌতুক দেওয়া বা গ্রহণ করা অবৈধ। আমি @MinistryWCD, @PMOIndia কে এই বিরুদ্ধে তৎপর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। "

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রী রবি শংকর প্রসাদ এই ওয়েবসাইটটিকে ব্লক করতে বলেছেন। পিটিআইয়ের মাধ্যমে তিনি এক চিঠিতে বলেন, "আমি এই সাইটটিকে অবিলম্বে ব্লক করতে এবং ওয়েবসাইটের মালিকদের / ডেভেলপারদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ করছি এবং এই ওয়েবসাইটটির হোস্টিং এজেন্সির বিরুদ্ধে ও ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানাচ্ছি।"

আরও ভয়ানক তথ্য এই ওয়েবসাইটটি কমপক্ষে সাত বছর পুরনো। ওয়েবসাইটটি আনুমানিক যৌতুকের পরিমাণ গণনা করার জন্য পাত্রের বয়স, জাতি, পেশা, বেতন, শিক্ষাগত যোগ্যতা, ত্বকের রঙ এবং উচ্চতা সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা গ্রহণ করে।

আপনাকে এর জন্য ড্রপ-ডাউন মেনুতে ক্লিক করে বিবরনগুলি পূরণ করতে হবে। বিকল্পগুলি তে মহিলাদের ভোগ্য পণ্যের মত ব্যবহার করা হয়েছে। যেখানে কালো ফর্সা থেক শুরু করে প্রতিটা যায়গায় মহিলাদের বাজারের পণ্যস্বরূপ ব্যবহার করা হয়েছে।


এই ওয়েবসাইটের মালিক তানুল ঠাকুর যিনি একজন চলচ্চিত্র সমালোচক তিনি বলেছেন, এটি একটি বিদ্রুপ ছিল। তার অ্যাকাউন্ট থেকে জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার ট্যুইট টিকে রিট্যুইট  করেছেন ও ক্যাপশনে জানিয়েছেন  "শান্ত হন, এটি একটি বিদ্রুপ ছিল। (কিন্তু ওয়েবসাইটের ট্রাফিক নির্দেশ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।)"।





ওয়েবসাইট অনুযায়ী, গড় উচ্চতার ২৬ বছর বয়সী ব্রাহ্মণ চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট ৪০ থেকে ৫০ হাজার মধ্যে বেতন পেলে তিনি ৫০ লাখ টাকা যৌতুক পাবার যোগ্য।

একইভাবে ওয়েবসাইটের মতে ৫০ থেকে ৭০ হাজারের মধ্যে উপার্জনকারী একজন ৩০ বছর বয়সী বৈশ্য আইআইটি-শিক্ষিত আইএএস অফিসারকে ৬৫ লাখ টাকার যৌতুক দাবি করা উচিৎ।

২০১৩ সালের জাতীয় অপরাধ রেকর্ড ব্যুরোর (এনসিআরবি) তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১.৮ % মহিলার যৌতুক ঘটিত কারনে মৃত্যু ঘটে। ২০১৬ সালে মোট ৭৬২১ জন যৌতুকের দাবিতে অত্যাচারের ঘটনা রেকর্ড করেছিল।

২০১৫ সালে, বৈবাহিক ওয়েবসাইট Shaadi.com একটি অনুরূপ ক্যালকুলেটর চালু করেছিল। তবে, সেটিতে যৌতুকের পরিমান দেখানোর পরিবর্তে, ভারতে যৌতুকের কারনে মৃত্যুর পরিসংখ্যান দেখানো হয়েছিল। বিশেষ করে সামাজিক সচেতনতা বিস্তারের প্রচারাভিজানের এটি একটি বিশেষ অংশ ছিল।