অমিত শাহ কি 'চোর'? বঙ্গ সিপিএমের দেওয়া তথ্য কি ঠিক ছিল?

১০দিক২৪ ব্যুরোঃ  বামেদের হারিয়ে ত্রিপুরার বিধানসভার নির্বাচনের জয়। অবশ্যই বিজেপির কাছে একটি বড় জয়। আর এই কারনেই অমিত শাহকে বারবার সেরার শিরোপা দিয়ে এসেছেন নরেন্দ্র মোদী। আবার সেরা হয়ে সংবাদ শিরোনামে অমিত শাহ। সম্প্রতি কিছু তথ্য সামনে এসেছে এবং সব দিক বিচার করেই সেরার সেরা বলা হচ্ছে অমিত কে। জানা যাচ্ছে আমদাবাদের যে সমবায় ব্যাঙ্কের অধিকর্তা তিনি, নোটবন্দির পর সেখানেই সব থেকে বেশি বাতিল নোট জমা পড়েছিল। সংখ্যা টা শুনলে অবাক হবেন। মাত্র পাঁচ দিনে ( ২০১৬’র ৯ নভেম্বর থেকে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত) প্রায় ৭৪৬ কোটি টাকা।

বাতিল নোট বদলের জন্য ‘প্রথম’ হওয়ায় অমিত শাহ কে ‘অভিনন্দন’ জানিয়ে রাহুল গাঁধী বিদ্রুপ ছুড়েছেন টুইটারে। একটি টুইটে রাহুল লিখেছেন, ‘আপনার(অমিত শাহ) ব্যাঙ্ক পুরনো নোট বদলে প্রথম স্থান দখল করেছে, অমিত শাহজি আপনাকে অভিনন্দন। যে লক্ষ লক্ষ ভারতীয়র জীবন নোট বাতিলে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে তাঁরা সবাই আপনাকে স্যালুট করছে। ’একটি পরিসংখ্যানে জানা যাচ্ছে নোটবন্দির পর বিজেপি আরও ৮১% ধনী হয়।

সরকারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কংগ্রেস জানাচ্ছে, ২০১৬-তে পাঁচ দিনে গুজরাতের ১১টি জেলা সমবায় ব্যাঙ্কে ৩১১৮ কোটি টাকার বাতিল নোট জমা পড়েছিল। জানা যাচ্ছে যে সময় নোটগুলি জমা পড়েছিল সেসময়ও ব্যাঙ্কের ডিরেক্টর ছিলেন বিজেপি সভাপতিই। দীর্ঘদিন ধরেই ওই সমবায় ব্যাঙ্কটির ডিরেকটর পদে রয়েছেন অমিত। এমনকী ২০০০ সালে একবার ব্যাঙ্কটির চেয়ারম্যানও ছিলেন।

তবে এঘটনা প্রথম প্রকাশ্যে এনেছিল বঙ্গ সিপিএম। সিপিএম ৮.১১.২০১৬ তে প্রথম একটি ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট সামনে আনেন। যেখানে তারা জানান ৮ ই নভেম্বর ২০১৬ তে, নোট বাতিলের আগেই বাংলার বিজেপির একাউন্টে প্রথমে ৬০ লাখ টাকা এবং তার পর ৪০ লাখ টাকা জমা পরে। এবং সেই টাকার সব টাই ৫০০ এবং ১০০০ টাকার নোট ছিল। সিপিএম এও জানিয়েছিল, যে ভারতের বিভিন্য ব্যাঙ্কে এই ভাবেই কালো টাকা সাদা করছে বিজেপি। এর পর থেকে একের পর এক ঘটনা সামনে আসতে থাকে। সেই সময়ে অনেক রাজনৈতিক দল, সিপিএম কে পাত্তা না দিলেও। সেই সিপিএম এর দেওয়া তথ্যের সুরেই এখন সুর মেলাতে হচ্ছে।

বিজেপির অমিত মালব্য জানান, ৭৪৬ কোটি টাকা জমা পড়েছিল কৃষক ও নব্য-মধ্যবিত্তদের ১ লক্ষ ৬০ হাজার অ্যাকাউন্টে। রাহুল ও কংগ্রেস নেতাদের অসাধু উপায়ে পাওয়া অর্থ জলে গিয়েছে। সে জন্যই তাঁরা মোদীর গায়ে কালি লাগানোর চেষ্টা করছেন।’’ তবে যে যাই বলুক অমিত শাহ র এই দুর্নীতি সামনে আসাতে রাজনৈতিক ভাবে যথেষ্ট চাপে বিজেপি।