চিন্তা বাড়ল আসামবাসীর। নাগরিক পঞ্জী নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট কি বললো জেনে নিন।

১০দিক২৪ ব্যুরোঃ  ৪০ লক্ষ মানুষের নাম বাদ রেখে আসামে জাতীয় নাগরিক পঞ্জীর চূড়ান্ত খসড়া প্রকাশিত হয়েছে। আর এই নিয়েই বিজেপির বিরুদ্ধে মুখ খুলেছে সব রাজনৈতিক দল। তবে এই নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট তাঁর নির্দেশ জানায়।

এর আগে, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি রঞ্জন গগৈ এবং বিচারপতি আর এফ নরিম্যানের পক্ষ থেকে জানান, "আসামের নাগরিক তালিকা একটি খসড়া মাত্র। তাই এর ভিত্তিতে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না। এ ব্যাপারে যে দাবিদাওয়া এবং আপত্তি-অসন্তোষ রয়েছে, তা মেটানো হবে স্বচ্ছ পদ্ধতিতে। সংশ্লিষ্ট দাবি ও পাল্টা দাবিগুলি কোন পদ্ধতিতে মেটানো হবে আগামী ১৬ আগস্টের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারকে তা শীর্ষ আদালতকে অবহিত করতে হবে। মানুষের মধ্যে যাতে কোনও বিভ্রান্তি তৈরি না হয়, সেজন্য আসামের খসড়া নাগরিক-পঞ্জি আগামী ৭ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। যাদের নাম বাদ গেছে তারা তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করানোর সুযোগ পাবেন। এর সময়সীমা হবে ৩০ আগস্ট থেকে ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে। যাদের আপত্তি, অসন্তোষ রয়েছে তারাও এই সময়ের মধ্যে লিখিতভাবে অভিযোগ জানাতে পারবেন।" দেশের শীর্ষ আদালতের এই নির্দেশিকার পর সাধারণ মানুষের কিছুটা স্বস্তি ফিরে পায়।

তবে এবার সুপ্রিম কোর্টের মন্তব্যে নয়া বিতর্ক তৈরি হল। আজ সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে আসাম সরকারের কাছে জানতে চাওয়া হয়, "যাদের নাম বাদ গিয়েছে, তাদের কেন নতুন করে নথি জমা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে? এতে করে কী আদৌ তাদের উল্লিখিত পূর্ববর্তী বংশলতিকায় বদল হওয়া সম্ভব।" অসমের এনআরসি-র রাজ্য কো অর্ডিনেটর প্রতীকা হাজেলাকে সওয়াল করে এই তথ্য জানতে চায় সুপ্রিম কোর্ট। এদিন সুপ্রিম কোর্ট, কোনও প্রকৃত ভারতীয় নাগরিকের নাম যাতে বাদ না পড়ে তা সুনিশ্চিত করতে বাদ পড়া নাগরিকদের তালিকার অন্তত দশ শতাংশের নথি পুনরায় পরীক্ষা করে দেখার নির্দেশ দিল। জানা যাচ্ছে, জেলা ভিত্তিক হবে এই সমীক্ষা।

এর আগে আসাম সকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে তারা নিজেদের ইচ্ছে মত বাদ দিয়েছে নাম। তবে এই ১০ শতাংশ সমীক্ষার পর কি হবে? যারা ভারতীয়ের প্রমান দিতে পারবে না, তাদের ই বা হবে? এই নিয়ে এখন ও সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে কোন পরিষ্কার নির্দেশ পাওয়া যায়নি। তাই সুপ্রিম কোর্টের এই মন্তব্যে আবার আসামবাসীর চিন্তা বাড়ল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।