মৌলবাদীর হাতে প্রকাশ্যে খুন, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক।

আবার খুন মুক্ত চিন্তার অধিকারী। স্থান আবার সেই বাংলাদেশ। গত কয়েক বছরে একের পর এক মুক্তচিন্তার ধারক বাহকদের খুন যেন রেওয়াজে পরিণত হচ্ছে বাংলাদেশে। এবারে যার শিকার হলেন বিশাখা প্রকাশনীর প্রকাশক ও লেখক শাহজাহান বাচ্চু। সোমবার আনুমানিক সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার সময় তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

শাহজাহান বাচ্চু বরাবরই ছিলেন সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মীয় উগ্রতার বিরুদ্ধে। তা নিয়ে তিনি তার ফেসবুক ব্লগে লেখালেখিও করতেন নিয়মিত। এদিন তাঁকে এরই মাসুল গুণতে হল বলে মনে করছে তাঁর পরিচিত মহল। এছাড়া সক্রিয় রাজনীতির সাথেও যুক্ত ছিলেন শাহজাহান বাচ্চু। মুন্সীগঞ্জ জেলার কমিউনিস্ট পার্টির প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি।

 


বাংলাদেশের পুলিশ সুত্রে জানা গিয়েছে তাঁর বাড়ী থেকে আধ কিলোমিটার দূরে একটি তিন রাস্তার মোড়ে বসে কথা বলছিলেন শাহজাহান বাচ্চু। তখন দুটি মোটর সাইকেল চেপে চারজন দুষ্কৃতী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় ও তাকে ধরে রাস্তায় নিয়ে আসে। লোকজনকে সরে যেতে বলে এবং একটি ককটেল ফাটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। বাচ্চুকে সরাসরি গুলি করা হয় ও তাঁর বুকের ডানপাশে একটি গুলি লাগে। এরপর দুষ্কৃতীরা এলাকা ছেড়ে পালায়। বাচ্চুকে চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষনা করেন।

ঘটনা প্রসঙ্গে শাহজাহান বাচ্চুর কন্যা আঁচল জাহান বলেছেন, "আমার বাবা একজন ব্লগার ছিলেন। তিনি ধর্মবিরোধী লেখালেখি করতেন। গত তিন বছর ধরে তিনি গ্রামের বাড়িতেই বসবাস করতেন। একসময় যখন ব্লগারদের হত্যা করা হচ্ছিল তখন আমার বাবার নাম লিস্টে ১১ নম্বরে ছিল। ২ বছর আগে অবধিও আমার বাবাকে নিয়মিত হত্যার হুমকি দেয়া হতো মুঠোফোনে।"

 

 


পুলিশ জানিয়েছে তদন্ত শুরু হয়েছে। কারা এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত তা জানতে বিশেস দল গঠন করা হয়েছে। অপরাধীরা শীঘ্রই ধরা পড়বে।

মুন্সীগঞ্জ জেলার কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক জানান "নিহত শাহজাহান বাচ্চু জেলা কমিউনিস্ট পার্টির প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক, একজন সাংবাদিক, কবি, ব্লগার, সংগঠক, ঢাকার বাংলাবাজারের বিশাখা প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ও আমাদের বিক্রমপুর সাপ্তাহিক পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ছিলেন। সর্বোপরি একজন ভালো মানুষ ছিলেন শাহজাহান বাচ্চু।"

 

 

পড়ুনঃ মানিক সরকারের গাড়ি আটকে বিজেপির বিক্ষোভ।