আজ বিশ্ব পরিবেশ দিবসে, কতোটা সুরক্ষিত আমরা ?

আজ বিশ্ব পরিবেশ দিবস। প্রতি বছর ৫ জুন বিশ্বব্যাপী জনসচেতনতার মাধ্যমে পরিবেশ সচেতনতার লক্ষ্যে আজকের দিকটিকে পালন করা হয়।

১৯৭২ খ্রিস্টাব্দের ৫ থেকে ১৬ জুন অবধি জাতিসংঘের পক্ষ থেকে ইউনাইটেড নেশনস কনফারেন্স অন দ্য হিউম্যান এনভায়রনমেন্ট করা হয়। এবং এর পরের বছর থেকে ১৯৭৩ থেকে প্রতিবছর এই সপ্তাহজুরে বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালন করা হয়। তবে উত্তর গোলার্ধের মানুষ রা দিন টিকে বসন্ত কালে এবং দক্ষিন গোলার্ধের মানুষ রা দিন টিকে বর্ষা কালে পালন করে।

গ্লোবাল ওয়ার্মিং কথা টা এখন আমাদের কাছে অনেক পরিচিত শব্দ। একটি তথ্য থেকে জানা গেছে গত ২৫ বছরে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পরিমান এর আগের ১০০ বছরের তুলনায় দ্বিগুণ। যা অত্যন্ত ভয়াবহ দিক কে তুলে ধরছে। এবার যদি পৃথিবীর তাপমাত্রা ১ ডিগ্রী সেলসিয়াস বৃদ্ধি পায় তাহলে আন্দিজে ছোট হিমবাহগুলো সম্পূর্ণ ভাবে গলে যাবে, আর তার ফলে কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই প্রায় পাঁচ কোটি লোক ক্ষতিগ্রস্থ হবে। যদি পৃথিবীর তাপমাত্রা ২ ডিগ্রী সেলসিয়াস বাড়ে তাহলে আফ্রিকার চার থেকে পাঁচ কোটি মানুষ ম্যালেরিয়াতে আক্রান্ত হবে। যদি ৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস বাড়ে পৃথিবীর তাপমাত্রা, তাহলে বৃষ্টিহীনতার কারণে শস্য উৎপাদন কমে যাবে। যাতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ১৫ থেকে ৫৫ কোটি জন । এছারা দশ লাখ থেকে ত্রিশ লাখ লোক কে পুষ্টিহীনতায় ভুগতে হবে। আর যদি পৃথিবীর তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস বাড়লে সমুদ্রতীরবর্তী প্রায় ৩০ কোটি লোক প্রতিবছর বন্যায় আক্রান্ত হবে।

একটি পরীক্ষা থেকে জানা গেছে এই ভাবে পরিবেশ দূষিত হতে থাকলে, ২১০০ সালে পৃথিবীর তাপমাত্রা ২.৪ ডিগ্রী থেকে ৬.৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস এর মধ্যে বৃদ্ধি পাবে।
জাতিসংঘের মানবিক ফোরামের এক গবেষণায় জানা যায় যে এ পর্যন্ত প্রায় ৩০ কোটি মানুষ জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে নিজেদের বসস্থান হারিয়ে প্রবলভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এবং এই সংখ্যা টা প্রতিবছর প্রায় ৩ লাখ করে ক্রমবর্ধমান। ধারনা করা যাচ্ছে, অদূর ভবিষ্যতে সম্পূর্ণ তলিয়ে যেতে পারে ভারতের পূর্বাঞ্চলের বেশ কিছুটা জায়গা বিশেষ করে সুন্দরবন, বাংলাদেশ, মালদ্বীপ আর শ্রীলংকা সহ পৃথিবীর নিম্নভূমির দেশসমূহ।
 

বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর গ্যাস যেমন CFC (ক্লোরোফ্লোরো কার্বন), CO (কার্বন মনোঅক্সাইড ) নির্গমন এবং প্রচুর পরিমাণ ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ নিষ্কাশনের ফলে দিন দিন পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে ।

আমাদের সাধ্যের মধ্যে আছে এমন অনেক বিষয়ই রয়েছে যেগুলি করলে আমারা আমাদের পরিবেশ কে রক্ষা করতে পারি। তার মধ্যে সব থেকে বড় কাজ হল জন সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

১) নতুন গাছ লাগানো। গাছপালা নিধন না করা, আর অন্যকে নিধনে নিরুৎসাহিত করা। গাছ লাগাতে মানুষ কে বিশেষ করে ছাত্র ছাত্রী দের উৎসাহিত করা।

২) গাড়ির ক্ষতিকর/ কালো ধোঁয়া বন্ধ রাখার চেষ্ঠা করা। এবং অন্যকে এ ব্যাপারে সচেতন করা। গাড়ির ধোঁয়ার পরীক্ষা করা।

৪) ময়লা আবর্জনা যত্রতত্র না ফেলা এবং প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো ।

৫) বাড়ির ফ্রিজটি এবং শীততাপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র সময় সময় সার্ভিসিং করিয়ে নেওয়া। যাতে ক্লোরোফ্লোরো কার্বন উৎপন্ন হওয়া কে নিয়ন্ত্রনে রাখা যায়।

আসুন অঙ্গিকারবদ্ধ হই

 

" তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ

 

 

প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল,

এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি

নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গিকার। "