পরীক্ষা প্রসঙ্গে: জীবনোগ্রাফি

গতকাল অর্থাত ৬ই জুন ছিল মাধ্যমিকের ফলাফলের দিন, ও আগামী কাল প্রকাশিত হতে চলেছে প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীর জীবনের আরেক বড় পরীক্ষা উচ্চমাধ্যমিকের ফলাফল।

এই দুটি পরীক্ষা নিয়েই বেশ খানিকটা চাপ থাকে পরীক্ষার্থীদের উপর। স্বাভাবিক ভাবেই যেহেতু এই পরীক্ষা গুলির ফলাফলের উপর ভবিষ্যত এর লেখাপড়া জীবন অনেকটা নির্ভর করে থাকে তাই বাড়ীর লোকের প্রত্যাশা থাকে ছাত্রছাত্রীদের উপর। যারা এই প্রত্যাশা পূরণ করে এগিয়ে যেতে পারল তাদের আগামী জীবনের জন্য রইল অনেকটা শুভ কামনা। কিন্তু যারা পারল না?

এই যারা পারল না তাদের অবস্থাটা কিন্তু খুব একটা ভালো নয় পশ্চিমবঙ্গে। সমীক্ষা বলছে রেসাল্ট পরবর্তী আত্মহত্যার হার সবথেকে বেশী পশ্চিমবঙ্গেই। শতকরা প্রায় ১৫.৫ ভাগ, যা জাতীয় হারের থেকে প্রায় ৫% বেশী। আর বেশ কিছু ছাত্রছাত্রী নম্বর খারাপ হবার কারণে বা প্রত্যাশার চাপ নিতে না পেরে চলে যায় ডিপ্রেশনে।

স্বাভাবিক নিয়ম মেনেই মানুষের জীবনে কেরিয়ার সর্বস্বতার গ্রাফ উর্দ্ধমুখী। যতটা না আমাদের আছে বা আমাদের ক্ষমতা তার থেকে অনেক বেশী করে দেখানোর প্রবণতা ক্রমশ বেড়ে চলেছে আমাদের। আর এই কাজে সবথেকে বেশী শিকার হচ্ছে বাড়ীর ছোটো সদস্যরা। তাদের ওপর পড়ছে পাহাড় প্রমান প্রত্যাশার চাপ। রেসাল্ট শুধু ভালো করলে হবেনা, সবেতেই হতে হবে ফার্স্ট। পাশের বাড়ীর ছেলেমেয়ের থেকে পেতেই হবে বেশী নম্বর। নয়তো সোসাইটিতে মুখ দেখানো যাবেনা। এই নিউক্লীয়ার ফ্যামিলির যুগে প্রথম থেকেই শিশু কিশোর রা একা। নিজের মতো শৈশব কৈশোর কাটানোর সময়টাও তাদের চলে যায় পড়ার বই মুখস্ত করতে। ক্রমবর্ধমান চাপে ভালোমানুষ নয়, ডাক্তার বা ইঞ্জিনীয়ার হয়ে ওঠাটাই হয়ে পড়ছে লক্ষ্য।

আজকে যারা এই নম্বরের লড়াই এ সামান্য হলেও পিছিয়ে রইলে তাদের বলব এতেই কিন্তু জীবনের শেষ হয়ে যায়না। হ্যাঁ অবশ্যই নম্বরে কিছু যায় আসেনা এটা বলবার সময় এখনও আসেনি। এখনও নিজের পছন্দের স্কুল বা কলেজে পছন্দের বিষয় নিয়ে পড়তে গেলে এই দুটি পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু এটুকুই বলার যে হয়তো নম্বরের নিরীখে একটু পিছিয়ে আছো তুমি।কিন্তু ভেঙে পড়োনা, বা এমন কোনো ক্ষতি করোনা যা পূরণ করা না যায়। ভালো মানুষ হওয়াটাই জীবনের লক্ষ্য হোক ও এই ফলাফলে শক্ত হোক তোমার জেদ। ভবিষ্যতে আরও ভালো কিছু করবার। কারণ আজ তোমার প্রাপ্ত নম্বর কাল কারোর মনে থাকবেনা, কিন্তু একটা ভুল পদক্ষেপের ক্ষতি রয়ে যাবে অপূরণীয় হয়ে।

আর অভিভাবক দের বলি আসুন না আজ একটু ওদের পাশে থাকি। হয়তো নম্বরের কোটা ৯এর ঘরে নেই আপনার বাড়ীর ছেলেটার বা মেয়েটার। তবু একবার গিয়ে একবার মাথায় হাত রাখুন তার। বলুন এবারে হয়নি তো কী হয়েছে, পরের বার নিশ্চয় হবে। দেখবেন অনেকটা ভার লাঘব হবে। হ্যাঁ ছেলেটি অঙ্কে ১০০ পায়নি কিন্তু হয়তো ওরই হাতের গীটারে বাজে দিনবদলের গান বা আবৃত্তিতে মিশে থাকে রোদের তেজ। মেয়েটা হয়তো চান্স পাবেনা নামকরা কলেজে কিন্তু হয়তো ওর কবিতার খাতায় ডানা ঝাপটায় একঝাঁক সবুজ টিয়া বা ক্যানভাস জুড়ে ছড়িয়ে থাকে অনেক অনেক স্বপ্ন। আসুন না বাড়িয়ে দি ভরসার হাত। ভালো থাক ওরা। ভালো থাক সব্বাই।