অস্ট্রেলিয়া এগোচ্ছে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে।

ঘড়ির কাঁটা মাত্র সাত মিনিট পেরিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার গোল রক্ষক কে ফাঁকি দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার জালটাকে প্রথম কাঁপাতে সক্ষম হল ডেনমার্ক। নিকোলাই জরগেনসেনের অসাধারণ এক দুর্দান্ত পাসকে স্বমহিমায় কাজে লাগিয়ে গোলটা করেন ডেনিশ নম্বর টেন ক্রিশ্চিয়ান এরিকসেন।

দর্শকরা ভেবে নিয়েছিলেন হয়ত ম্যাচের ভাগ্য লিখন হয়ে গেছে। কিন্তু ম্যাচের ভাগ্যে এখন ও অনেক কিছু বাকি ছিল। যারা ভেবেছিলেন ডেনমার্ক ই আজ শেষ হাসি হাসবে তাদের অবাক করে ছন্দে ফেরে সকারুরা।

সাত মিনিটে গোল তাতিয়ে দেয় অস্ট্রেলিয়াকে। ওই গোলই তাদেরকে অনুপ্রাণিত করে একের পর এক আক্রমণ শাণাতে। যে আক্রমণের ঠেলা সামলাতে দারুণ বেগ পেতে হয় ডেনমার্ককে।

কিন্তু কতক্ষণ আর! ৩৭ মিনিটে গিয়ে অস্ট্রেলিয়ার কর্নার কিক এসে লাগে ইউসুফ পলসেনের হাতে। বিষয়টা প্রথমে এড়িয়ে যায় রেফারির চোখ। কিন্তু এই বিশ্বকাপে তো যোগ হয়েছে এমন এক রেফারি, যার চোখকে ফাঁকি দেয়া শুধু কঠিনই নয়, বরং অসম্ভব।


সেই ভিএআর বা ভার্চুয়াল অ্যাসিসটেন্ট রেফারি জানিয়ে দেয়, বলটা আসলেই পলসেনের হাতে লেগেছে। ভিএআরের সাহায্যে পেনাল্টি পেয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। তারা আসলে পেয়ে যায় ম্যাচে টিকে থাকার পথই। পেনাল্টির সুযোগ হেলায় হারায়নি সকারুরা। মাইল জেডিনাক স্পট কিক থেকে করেন গোল। ম্যাচে প্রতিষ্ঠিত হয় সমতা।

ম্যাচের বাকি সময়টায় দুই দলই চেষ্টা করে যায় সমতা ভেঙে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব দেখানোর। কিন্তু সফল হয়নি ডেনমার্ক। সফল হয়নি সকারুরাও। যদিও একের পর এক আক্রমণে প্রতিপক্ষের রক্ষণকে দুই দলে ব্যতিব্যস্ত করে রেখেছিলো। সহজ সুযোগও এসেছিলো দুই দলের সামনেই। কিন্তু ভাগ্যের মুখ ফিরিয়ে থাকা ও দক্ষতার চূড়ান্ত প্রয়োগে ব্যর্থ হওয়ায় দুই দলই সুযোগগুলো হারায়। ম্যাচ শেষে তাদের সন্তুষ্ট থাকতে হয় এক পয়েন্টের ভাগ পেয়েই।

অস্ট্রেলিয়ার জন্য এই ড্র যতোই বেদনার হোক, ডেনমার্কের জন্য তা নয়। দুই ম্যাচে এক জয় ও এক ড্রয়ে তারা বরং এক পা বাড়িয়ে রাখলো নকআউট পর্বে। অন্য দিকে দুই ম্যাচে এক হার ও এক ড্রয়ে অস্ট্রেলিয়া চলে গেলো বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে।