ধর্মঘট নিয়ে ঘুরপথে বিজেপির পাশেই দাঁড়ালো মমতা? 'দুর্নীতির' ভয়েই কি সরে এলতৃণমূল?

১০দিক২৪ ব্যুরোঃ গতকাল, সি পি আই (এম)-র রাজ্য সম্পাদক সূর্য মিশ্র একটি সাংবাদিক বৈঠক করে বলেছেন, "শ্রমিক কৃষক মধ্যবিত্ত যারাই আক্রান্ত, যারাই দেশের স্বনির্ভরতা চান, সেই সব দেশপ্রেমিক মানুষকে আমরা হরতালে সামিল হওয়ার জন্য আবেদন করছি।" এই দিন কংগ্রেস ও দেশ ব্যাপী ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। কিন্তু বাংলায় তৃণমূল কি ভূমিকা নেয় সেদিকেই তাকিয়ে ছিল রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

দেশ ব্যাপী বিজেপি বিরোধী দল গুলোকে নিয়ে ফেডারেল ফ্রন্ট গঠনের প্রচেষ্টা চলছে, যেখানে অনেক বার ই তাঁর প্রধান মুখ হিসেবে উঠে এসেছে মমতা ব্যানার্জির নাম। আর এই মুহূর্তে বাম কংগ্রেসের ডাকা, "জনবিরোধী ও স্বৈরাচারী" বি জে পি সরকারের বিরুদ্ধে আগামী ১০ই সেপ্টেম্বর দেশজুড়ে যে হরতালে তৃণমূলের কি ভূমিকা থাকে সেদিকেই তাকিয়ে ছিল দেশ।

এমন কি এই ইস্যু নিয়ে মুখ খোলেন সূর্য মিশ্র। তিনি মমতার উদ্যেশে জানান, "আপনি যদি সত্যিই ফেডারেল ফ্রন্টের কথা বলে থাকেন, কেন্দ্রের বিরুদ্ধে যা বলেন তা যদি সত্যিই সদিচ্ছা নিয়ে বলে থাকেন তাহলে কেন্দ্রের নীতির বিরুদ্ধে এই হরতালে আপনারাও যোগ দিন। দ্বিচারিতা করলে কিন্তু মানুষের কাছে আপনাদের অবস্থান প্রমাণিত হয়ে যাবে।"

কিন্তু শেষে ধর্মঘটের সমর্থন না করে উল্টে সেই মোদীকেই পরোক্ষ সমর্থন জানালেন মমতা। শুক্রবার নির্দেশিকা জারি করে নবান্নের তরফ থেকে জানানো হল, সোমবার বনধের দিন অফিস না এলে কাটা যাবে একদিনের বেতন ৷ সব সরকারি কর্মচারীদেরই এদিন হাজিরা দিতে হবে অফিসে ৷ এই নিয়েই শুরু হয়েছে বিতর্ক।

এর আগে সূত্র মারফৎ জানা যায়, ধর্মঘটে অংশগ্রহণ করবে না বলে তৃণমূলের দলীয় নেতৃত্বের তরফে জানানো হয়েছে। ওই দিন পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় মিছিল করবে শাসকদল। কিন্তু আবার নবান্নের নির্দেশিকায় জোর করে অফিসে আসার কথা বলে তৃণমূল ধর্মঘট কে ভাঙবার চেষ্টা করছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সারদা, নারদা, রোজভ্যালি বিভিন্ন দুর্নীতির মামলায় জড়িয়ে রয়েছে তৃণমূল, তাই কি বিজেপি কে সন্তুষ্ট করতে এই পদক্ষেপ নিচ্ছে তৃণমূল? উঠছে প্রশ্ন।