ফিনিস থেকে ফিনিক্স হলো সুশান্ত। যুব দের শোনালেন তাঁর জেল বন্দির ইতিহাস। জানুন।

১০দিক২৪ ব্যুরোঃ যুব সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বলতে গিয়ে একের পর এক বোমা ফাটান সুশান্ত ঘোষ। কেন তিনি জেল বন্ধী হন, সেই বিষয়ে ও মুখ খোলেন তিনি। এই দিন তিনি নিজের বক্তব্য কে তুলে ধরতে গিয়ে নিজের জেল যাবার ইতিহাস তুলে ধরেন।

তিনি তাঁর জেল যাবার কারণ প্রসঙ্গে বলেন,  "আমি ২০১১ সালে সরকার বদলের পর প্রথম এই সরকারের হাতে গ্রেফতার হই। কিসের দোষে জানেন? ২০০২ সালে তৃণমূলের সঙ্গে একটা সংঘর্ষ হয়েছিল কেশবের মাটিতে। কয়েকজন লোক মারা যায়, কিছু মৃতদেহ পুলিশ থানায় নিয়ে এসে কেস করে, কিছু মৃতদেহ নাকি পাওয়া যায়নি। নয় বছর পরে মাটির তলা থেকে কিছু হাড় বের হয়। সেই হাড়গোড় যখন তোলা হলো, তখন একটি ছেলে গিয়ে বলল, এই হার গুলো তার বাবার। তাকে যখন জিজ্ঞাসা করা হয় কি দেখে তিনি বুঝলেন? তিনি জবাবে বলেন, ন বছর পরে টুকরো টুকরো হয়ে যায় হাড়গোড়ের সঙ্গে নাকি একটা গেঞ্জি এবং আন্ডারওয়ার পাওয়া গেছে, ওগুলো আমার বাবার।"

এই বলে তিনি হাস্যকৌতুক এর সঙ্গে শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুড়ে জিজ্ঞাসা করেন, "আচ্ছা গেঞ্জি আর আন্ডারওয়ার যদি নয় বছর মাটির তলায় থাকে তাহলে সেগুলো কি কখনো অক্ষত থাকতে পারে? এটা পাগলেও বিশ্বাস করবে না। আর সেটা এই সরকার বিশ্বাস করে। সেই কেসেই আমাকে জেলে যেতে হয়েছিল।"

নিজের জেলে যাবার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, জেল যাবার আগে তাঁর সঙ্গে কিরকম নির্মম অত্যাচার করা হয়। তিনি বলেন, "জেলে কাটানোর আগে ভবানী ভবনে সিআইডি প্রধান কার্যালয় নিয়ে গিয়ে, একটানা ৩০ ঘণ্টা ধরে জেরার নামে মানসিক অত্যাচার করে আমাকে পাগল করে দিতে চেয়েছিল এই সরকার। এক মুহূর্তের জন্য আমাকে বিশ্রাম নিতে দেওয়া হয়নি। আজকের বেলা ১২ টায় জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে সারাদিন তার পরের দিন ও সন্ধ্যা ছয়টা অবদি আমার জিজ্ঞাসাবাদ চলে। যখন আমার ব্লাড প্রেসার ১৮০/১৩০ এ পৌছায়, চিকিৎসক তখন আমাকে জানান আপনাকে এখনই হাসপাতালে ভর্তি না করলে আপনার হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।"

এখানে তিনি চিকিৎসক দের জানান,  "আমার হার্ট এত দুর্বল না। কিন্তু জিজ্ঞাসাবাদের নামে ওরা এই ৩০ ঘন্টায় পাঁচটা পুলিশ অফিসার বদল করেছে, আর আমি একটা হাতলবিহীন চেয়ারে ৩০ ঘন্টা বসে আছি। আমাকে কয়েক ঘন্টার বিশ্রাম দিন। আরো কত জিজ্ঞাসাবাদ আছে, সব জিজ্ঞাসাবাদ আমি উত্তর দেব। কিন্তু আমার কয়েক ঘন্টা বিশ্রামের প্রয়োজন। কিন্তু চিকিৎসকরা আমাকে অনুমতি দেননি আমাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।"

এর পরে পুলিশ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তৃণমূল সরকারের গোপন অভিসন্ধির কথা ফাঁস করেন তিনি। তিনি বলেন, "এর মধ্যেই পুলিশের মধ্যে একজন ইন্সপেক্টর ছিলেন। যখন ভোর বেলা ডিএসপি যখন ঘুমাচ্ছেন, সাব ইন্সপেক্টর যখন বাথরুমে, তখন সেই ইন্সপেক্টর চুপি চুপি কানের কাছে এসে আমাকে বলেন, 'স্যার পরিকল্পনা হয়েছে ভয়ংকর, জিজ্ঞাসাবাদের নামে একটানা আপনার উপর মেন্টাল টর্চার করতে করতে আপনাকে শেষ করে দেওয়া হবে। আপনি যদি অসুস্থ হবার ভান করে পড়ে যান তবেই আপনাকে একমাত্র বাঁচানো যেতে পারে। আর না হলে আপনাকে বাঁচানো যাবে না।'

এর পরে সুশান্ত বাবু জানান, "আমি তাকে জানাই ধন্যবাদ। এ কথা বলার জন্য কিন্তু এত ক্ষমতা ওদের নেই তাহলে অন্যায় জিতে যাবে কিন্তু অন্যায় কখনো জিততে পারে না। অন্যায় সাময়িক জেতে কিন্তু জয় হয় সত্যের। আমি জিজ্ঞাসাবাদের উত্তর দিয়ে যেতে পারবো আপনাকে ধন্যবাদ।" এভাবেই নিজের জীবনের ঘটনা তুলে ধরে এক দিকে যেমন তৃণমূল সরকার কে বিঁধেছেন সুশান্ত ঘোষ, ঠিক তেমনই আবার যুব দের লড়াই করার বার্তা ও দিয়েছেন বাম নেতা। সব মিলিয়ে যুব সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে, ফিনিস থেকে ফিনিক্স হলে উঠেছেন সুশান্ত ঘোষ।