ছাত্র খুনের প্রতিবাদে BJP-র ধর্মঘটে যোগ দেবার আগে, জানুন BJP-র 'ছাত্র প্রেমের'ইতিহাস।

১০দিক২৪ ব্যুরোঃ ইসলামপুরে দুই ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে রাজ্য জুড়ে পথে নেমেছে বাম এবং বিজেপি। কিন্তু বিজেপি কে আক্রমণ করে সিপিআই(এম) নেতা সূর্য মিশ্র। তিনি সাংবাদিক দের জানান, রাজনৈতিক মেরুকরণের উদ্দেশ্যে বিজেপি ধর্মঘট ডেকেছে, এই ধর্মঘট প্রত্যাখ্যান করুন। কিন্তু এমন এক পরিস্থিতিতে 'ছাত্র প্রেমী' হয়ে উঠে আসা বিজেপি আসলে কতটা ছাত্র প্রেমী তা নিয়ে তৈরি হয়েছে  নানা বিতর্ক। কারণ বিজেপি কে সব সময় ই ছাত্র আন্দোলনের বিরুদ্ধে ই হাঁটতে দেখা গেছে। জেনে নিন সেই তথ্য গুলি।



• হায়দরাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রিসার্চ স্কলার রোহিত ভেমূলাকে দলিত বলে নিপীড়নের শিকার হতে হয়, যাতে যুক্ত স্থানীয় বিজেপি সাংসদ বঙ্গারু দত্তাত্রেয় ও খোদ মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি। ২০১৬ সালের ১৭ই জানুয়ারি তাঁকে হোস্টেলের ঘরে ঝুলন্ত ও মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

• নাজিব আহমেদ, জেএনইউ-র বায়োটেকনোলজির ছাত্র ২০১৬সালের ১৫ই অক্টোবর থেকে নিখোঁজ। বিজেপি-আরএসএস-র ছাত্র সংগঠন এবিভিপি যার জন্য সরাসরি অভিযুক্ত। তাঁকে আগেরদিন এবিভিপি-র বাহিনী বেধড়ক মারধর করে, পরদিন ক্যাম্পাস থেকেই সে নিখোঁজ। তাঁকে গুমখুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ।




• গত ৯ই ফেব্রুয়ারি, বিজেপি শাসিত উত্তরপ্রদেশের এলাহাবাদে দিলীপ সরোজ নামে এলএলবি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রকে একটি রেস্তোরায় বিজেপি-র ঠ্যাঙাড়েবাহিনী এমন মারে যে সে কোমায় চলে যায়। পরদিন, ১০ই ফেব্রুয়ারি সে মারা যায়। দলিত ছাত্র দিলীপ সরোজের বাড়ি ওই রাজ্যের প্রতাপগড়ে। এই মারের ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছিল।

• ২০০৪ সালে ১৯ বছরের তরুণী ইসরাত জাহান ও অপর তিনজনকে এক সাজানো সংঘর্ষে ঠান্ডা মাথায় গুলি করে হত্যা করে গুজরাট পুলিশ এবং রাজ্যের গোয়েন্দা বিভাগ৷ গুজরাট হাইকোর্টে সিবিআই-এর দাখিল করা চার্জশিটে ঠিক এমনটাই বলা হয় ৷ গুজরাটের আহমেদাবাদ ও গান্ধীনগরের মাঝখানে এক নির্জন সড়কে নিয়ে গিয়ে এক ভুয়ো সংঘর্ষে ১৯ বছরের তরুণী ইসরাত জাহান এবং অপর তিনজনকে হত্যা করা হয় এবং এ জন্য অভিযুক্ত করা হয় গুজরাট পুলিশ এবং রাজ্য গোয়েন্দা বিভাগের সাতজন শীর্ষ কর্তাব্যক্তিকে।




• বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশের ‘ব্যাপম’ (মধ্যপ্রদেশ ব্যবসায়িক পরীক্ষা মণ্ডল) কেলেঙ্কারিতে এপর্যন্ত ৫০জনের বেশি নিহত হয়েছেন নানাভাবে। এদের মধ্যে কেউ ডাক্তারির ছাত্রী, কেউ কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত, কেউ সাক্ষী, কেউ রাজসাক্ষী, কেউ তদন্তকারী চিকিৎসক। কারও দেহ পাওয়া যাচ্ছে রেললাইনে, কেউ নিজের বাড়িতে মারা যাচ্ছেন আগুনে পুড়ে, জেলে অসুস্থ হয়ে আচমকা মৃত্যু হচ্ছে কারও। কারও দেহ মিলছে হোটেলে। সাক্ষাৎকার নেওয়ার পরেই মুখে গ্যাঁজলা উঠে মারা যাচ্ছেন সাংবাদিক। মধ্যপ্রদেশে ডাক্তারি-ইঞ্জিনিয়ারিং-সহ বিভিন্ন পেশা-শিক্ষায় ভর্তির দায়িত্বে রয়েছে ব্যাপম। ২০১৩ সালে হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলায় প্রকাশ্যে আসে এই কেলেঙ্কারি। কোর্টের নির্দেশে এই ঘটনার তদন্তে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) তৈরি হয়। পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স-ও তৈরি হয়েছিল। ৩২৯২টি মামলায় চার্জশিট পেশ করেছে সিট। প্রমাণ হিসেবে ৯২,১৭৬টি নথি জমা করেছে। এখনও পর্যন্ত এই মামলায় ১০৮৭টি ক্ষেত্রে জালিয়াতি ধরা পড়েছে। ২৫০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। প্রায় ২০০০ জন গ্রেফতার হয়েছে। কিন্তু একের পর এক অস্বাভাবিক মৃত্যুর কোনও কূলকিনারা করতে পারেননি তদন্তকারীরা। এক একটি মৃত্যু হলিউডের সিনেমাকেও হার মানিয়েছে। অথচ একটি মৃত্যুও ছুরি-বুলেটে হয়নি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেগুলো আকস্মিক মৃত্যু।

• এবছরের ২৪শে ফেব্রুয়ারি বিহারের মুজফ্‌ফরপুরের একটি ঘটনা বিজেপি নেতাদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার চরম নিদর্শন হয়ে রয়েছে। মনোজ বইঠা নামে বিজেপি-র এক নেতা এমন বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালাচ্ছিল, যে তার মাহীন্দ্র বোলেরো গাড়ি মুজফ্‌ফরপুরের আহিয়াপুরে অবস্থিত ধরমপুর গভর্মেন্ট মিডল স্কুল বিল্ডিং-এ ধাক্কা মারে। ৭৭নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে অবস্থিত ওই স্কুলের ৯টি শিশুছাত্র ঘটনাস্থলে নিহত হয় এবং আরো ২৪জন আহত হয়।

এখানেই উঠছে প্রশ্ন, বিজেপি কি আদেও ছাত্র প্রেমী?