'বেচারা' বেচারাম। মমতার কৃপায় "হিরো থেকে জিরো" সিঙ্গুর আন্দোলনের নেতা।

১০দিক২৪ ব্যুরোঃ বাংলার মাটিতে সিঙ্গুরের মাটি কেই ভরসা করে ক্ষমতায় এসেছিল তৃণমূল। বামেদের গড়তে চাওয়া টাটা র ন্যানো গাড়ি প্রস্তুত সংস্থা কে সরিয়ে, কৃষকের দাবি নিয়েই ক্ষমতায় এসেছিলেন তিনি। আর এই লড়াইতে সিঙ্গুরের মাটিতে মমতাকে বাড়তি অক্সিজেন জুগিয়েছিলেন, বেচারাম মান্না, রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের মত মানুষরা।

মমতার তীব্র আন্দোলনের মুখে শেষ পর্যন্ত টাটা সিঙ্গুর থেকে পাততাড়ি গুটিয়ে চলে যায় গুজরাটের সানন্দে। পরে সেখানে শুরু করে ন্যানো গাড়ির উৎপাদন। এমন কি বামেরা ও পরাজিত হয় রাজ্যে। কিন্তু এবার সেই সিঙ্গুর জয়ের অন্যতম এক কাণ্ডারি কে ই ছেঁটে ফেললেন মমতা।




জানা যাচ্ছে, এবার বেচারাম মান্না কে তার দায়িত্ব থেকে সরান হল। সিঙ্গুরের রতপুর গ্রামের পাটশিল্পের এক কৃষক নেতা থেকে শুরু হয় বেচার রাজনৈতিক জীবন। এর পরে, ২০১১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নির্বাচনে হরিপাল আসন থেকে জয়ী হয় বেচারাম মান্না। দশম শ্রেণি পর্যন্ত তাঁর শিক্ষা থাকায়, প্রথমে মন্ত্রিত্ব না দিয়ে পরে তাঁকে কৃষি প্রতিমন্ত্রী করেন মমতা।

এক ই সঙ্গে তৃণমূলের টিকিটে সিঙ্গুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে শিক্ষক রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য জয়ী হন। আর প্রথম পর্যায়েই মাস্টার মশাইকে মন্ত্রিত্ব দেওয়া হয়। এর পর থেকেই রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য এবং বেচারামের বিবাদ বাড়তে থাকে। যার জন্য মমতা মন্ত্রিত্ব থেকে ছেঁটে দেন বেচারামকে। শেষে বেচারাম, সিঙ্গুর ইউনিয়নের সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি গোষ্ঠী দ্বন্দ্বের জন্য সেই পদ কেড়ে নেওয়া হল তার থেকে।



বেচারামের পদে নিয়ে আসা হয় রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য কে। যদি ও মহাদেব দাসকে এই পদে রাখা জন্য মত জানিয়েছেন রবীন্দ্রনাথ বাবু। তবে দোর্দণ্ড প্রতাপশালী নেতা থেকে এখন তৃণমূলের সাধারণ সদস্য হয়েই থাকতে হচ্ছে বেচা কে। অনেকেই ব্যাঙ্গ করে বলছেন, এক রাতেই হিরো থেকে জিরো হলেন 'বেচারা' বেচারাম।