প্রায় দশ বছর পরে মাকে দেখতে এলেন মেয়ে।

১০ দক ২৪ ব্যুরো : নদিয়ার রানাঘাটে হঠাৎ সেলিব্রিটি হয়ে যাওয়া রানু মণ্ডলকে নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে খবরের জেরেই তাদের আবার দেখা হলো।তাদের এই মিলনের দৃশ্য কোন সিনেমাকেও হার মানাবে তা ছিল এতোটাই আবেগপূর্ণ।গলা জড়িয়ে ধরে দু’জনের চোখেই তখন জল। এক সঙ্গে গানও গাইলেন তারা। প্রতিবেশীরাও তা দেখল তাদের এই ভালোবাসা মিশ্রিত আবেগের দৃশ্য।

রবিবার বীরভূমের সিউড়ি থেকে রানাঘাট বেগোপাড়ার মায়ের কাছে ছুটে এসেছিলেন মেয়ে সাথী রায়। সাথী জানিয়েছেন, তার মা মানসিক ভারসাম্যতা হারিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াতেন। সে তার মায়ের সাথে দেখা করতে আসতে চেয়েও তার পারিবারিক সমস্যা সে তার মায়ের সাথে দেখা করতে পারেননি। ব্যক্তিগত কিছু সমস্যার মধ্যে তিনি ছিলেন সেই কারণে দীর্ঘ ১০ বছর ধরে তিনি তার মায়ের সাথে দেখা করতে আসতে পারেননি। একটি ছোট দোকান চালিয়ে তার ছেলে মেয়েদের মানুষ করতে হয়। তার দাদা কলকাতায় থাকলেও তার দাদার সাথেও তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। তিনি এটিও জানিয়েছেন যে, তিনি এখন বেশ কিছুদিন তার মায়ের সাথে কাটাতে চান।

সোশ্যাল মিডিয়ায় রানুর গানের ভিডিয়ো পোস্ট করে রানুর প্রতিভা দেশের মানুষের কাছে তুলে ধরেছিলেন অতীন্দ্র চক্রবর্তী। রবিবার তিনি বলেন, ‘বেশি আনন্দ পেলাম মা - মেয়েকে এক জায়গায় এনে দিতে পেরে।’ ‘আমরা সবাই’ ক্লাবের সদস্য তপন দাস বলেন, ‘ভিড় সামলাতে আমাকে এখন ওদের বাড়ির দরজায় পাহারা দিতে হচ্ছে।’সাথীর কথায়, ‘জীবনে অনেক কষ্ট পেলেও মায়ের স্বপ্ন ছিল গায়িকা হওয়ার। দুঃখ কষ্টের অনেক পথ পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত তাঁর গান যে দেশের এত মানুষ শুনলেন, প্রশংসা করলেন এতে মনে হচ্ছে মায়ের স্বপ্ন সফল হল।’