BJP র রথ যাত্রাকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে, ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি দিবস’ কে পাখির চোখবামেদের।

১০দিক২৪ ব্যুরোঃ বাবরি মসজিদ কে নিয়ে সংঘাত ঘটেছে বার বার৷ বাবরি মন্দির না মসজিদ এনিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। কিন্তু ফৈজাবাদ জেলার ১৯০৫ সালের গ্যাজেটিয়ার অনুযায়ী ১৮৫৫ সাল অবধি নাকি হিন্দু এবং মুসলমান, দুই সম্প্রদায়ই সংশ্লিষ্ট ভবনটিতে প্রার্থনা ও পুজা করেছে৷ এর পর ১৮৫৮ এর সিপাহী বিদ্রোহের পর পাল্টে যায় এই নিয়ম। এর পর মসজিদের সামনেটা ঘিরে দেওয়া হয় এবং হিন্দুরা বহিরাঙ্গণের একটি ‘চবুতরা'-র উপর তাদের পুজাপাঠ করতে থাকে৷ এখান থেকেই মূল দ্বন্দের সূত্রপাত।




বিশ্ব হিন্দু পরিষদ নানান সময়ে এই নিয়ে আন্দোলন শুরু করে। ভারতীয় জনতা পার্টির প্রবীণ নেতা লাল কৃষ্ণ আদভানি ভারতের দক্ষিণতম প্রান্ত থেকে তাঁর দশ হাজার কিলোমিটার দূরত্বের ‘রথযাত্রা' শুরু করেন৷ যদিও, ১৯৯২ সালের ৬ই ডিসেম্বর এল কে আদভানি, মুরলি মনোহর যোশি, বিনয় কাটিয়ার ইত্যাদি নেতারা পুজা প্ল্যাটফর্মে পৌঁছে একটি প্রতীকী ‘কার সেবা' করেন৷ সেদিন দুপুরে এক কিশোর ‘কার সেবক' একটি গম্বুজে চড়ে – যার পরেই মসজিদের বাইরের কর্ডন ভেঙে ফেলা হয়৷ ধ্বংস করা হয় বাবরি মসজিদ। এবং সারা দেশ জুড়ে ছড়িয়ে পরে হিন্দু মুসলিম দাঙ্গা।

এর পর থেকেই ৬ই ডিসেম্বর দিন টিতে বামেরা সারা দেশ জুড়ে, ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি দিবস’ হিসেবে পালন করে। প্রতিবছর এই কর্মসূচী পালন করা হলেও ২০১৪ সালের পর বিজেপি কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসার পর থেকে বাম কর্মী সমর্থক দের কাছে এই কর্মসূচীর প্রাসঙ্গিকতা বৃদ্ধি পায়।




সামনে লোকসভা নির্বাচন, বিজেপি আডভানির দেখান পথেই হেঁটে সারা রাজ্যে রথ যাত্রার আয়োজন করেছে। যেখানে প্রথম রথ আগামী ৩ ডিসেম্বর বের হবে বীরভূম জেলার তারাপীঠ থেকে। সারা রাজ্য জুড়ে মত তিনটি রথ কলকাতায় এসে পৌঁছাবে আগামী ২২ জানুয়ারি। তাই ৬ তারিখের ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি দিবস’ কে বিশেষ জোর দিতে চাইছে বাম শিবির। গতকাল মঙ্গলবার বামফ্রন্টের বৈঠকে রথের মোকাবিলায় সম্প্রীতি দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাম নেতারা। সিদ্ধান্ত হয়েছে, ৬ ডিসেম্বর কলকাতায় মিছিল করবে বামফ্রন্ট। এ লক্ষ্যে বামফ্রন্ট ২১ নভেম্বর থেকে টানা ১৫ দিন প্রচার অভিযান চালাবে রাজ্যজুড়ে।



এর আগেই সিপিআই(এম) নেতা সূর্য কান্ত মিশ্র কর্মী সমর্থক দের নির্দেশ দিয়েছিলেন "সবাই সতর্ক থাকবেন, ডিসেম্বর মাসে বি জে পি নাকি আবার রাজ্যের তিন প্রান্ত থেকে তিনটে রথযাত্রা বের করবে। আমাদেরও চ্যালেঞ্জ থাকবে, যদি সেই রথ মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃঘাতী দাঙ্গা বাধানোর চেষ্টা করে তাহলে মানুষ রথ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেবে।" তাই বামেরা ৬ তারিখের কর্মসূচিকে পাখির চোখ করেই সারা রাজ্যের সাম্প্রদায়িক শক্তি কে বার্তা দিতে চলেছে।