২০০৭ এর তৃণমূলের ডাকা ধর্মঘটে, পরীক্ষা স্তগিত রেখেছিল বামেরা।

১০দিক২৪ ব্যুরোঃ আগামী ৮ এবং ৯ তারিখ সারা দেশজুড়ে বামপন্থী শ্রমিক সংগঠন গুলির ডাকে আয়োজিত হতে চলেছে সারা ভারত ধর্মঘট। এই ধর্মঘট মূলত আয়োজিত হতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার অর্থাৎ বিজেপির জন-বিরোধী নীতির বিরুদ্ধে। তবে ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল সরকার ও এই ধর্মঘটের বিরোধিতা করেছে। কেন এই ধর্মঘটের বিরোধিতা করা হলো, তা স্পর্শ না করলেও সরকারি দপ্তর স্কুল কলেজ সবই খোলা রাখার জন্য কঠোরভাবে সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশ নামা পাঠানো হয়েছে। এমনকি বন্ধের দিন কে সরকারি কাজে না এলে কমতে পারে কর্ম দিবস।

এবারের ধর্মঘটের মধ্যেই অনেকগুলি পরীক্ষাও অনুষ্ঠিত হতে চলেছে সারা রাজ্য জুড়ে। জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ডের পক্ষের পরীক্ষা রয়েছে এর মধ্যেই। লক্ষ্য লক্ষ্য জয়েন্ট পরীক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। তবে পরীক্ষা বাতিলের দিকে যেতে চাইছে না রাজ্য সরকার। তাই কি করে ওই দিন ধর্মঘটের মধ্যে ছাত্ররা ও অভিভাবকরা পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাবে তা নিয়ে মহা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা। বামেদের বিরোধিতা করতে গিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের অসুবিধার কথা ভাবল না সরকার।




কিন্তু ২০০৭ সালে তৃণমূলের ডাকা ধর্মঘটে ছাত্র-ছাত্রীদের অসুবিধা যাতে না হয় তার জন্য পরীক্ষা স্থগিত রেখেছিল বামেরা। নন্দীগ্রামের গুলি চালানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই ধর্মঘট টি ২০০৭ সালে আয়োজিত হয়েছিল। ধর্মঘট টি ডেকেছিল তৃণমূল বিজেপি এসইউসিআই ছাড়াও নকশাল সংগঠনগুলি। এই ধর্মঘট কে কেন্দ্র করে একাধিক জায়গায় বাস পুড়িয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে আক্রমণ নামিয়ে আনেন তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থকরা, কিন্তু সেই সময় বামেরা ছাত্র-ছাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে বোর্ডের পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাও স্থগিত রেখেছিল।

কিন্তু পরিবর্তনের পর ধর্মঘটের সম্পূর্ণ বিরোধিতা করে তৃণমূল কংগ্রেস। সেই সময় বিরোধী দল নেতা, আজকের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। ধর্মঘটে ছাত্র দের কি অসুবিধা হতে পারে, তা অনেক ভাল ভাবেই জানেন তিনি, তবু ও শুধু বাম বিরোধিতা করার জন্যই তিনি মুখে কুলুপ এঁটেছেন বলে মনে করছে শিক্ষা মহল। সারাদেশ জুড়ে যেখানে শ্রমিকরা শ্রমিকের দাবি নিয়ে ধর্মঘট ডাকতে চলেছে সেখানে জয়েন্ট এর মত বড় পরীক্ষা গুলোকে বন্ধ না করে, ছাত্র এবং অভিভাবকদের অনিশ্চয়তার মধ্যেই ফেলে দিল তৃণমূল সরকার, এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।