রাজ্যে চালু হচ্ছে ২৫০০ টাকা মাইনের, সিভিক শিক্ষক। ছাত্রদের ভবিষ্যৎ কোন পথে?

১০দিক২৪ ব্যুরোঃ পুলিশকে সাহায্য করার জন্য সিভিক পুলিশ চালু করেছিল রাজ্য সরকার। কিছু অদক্ষ কিছু অর্ধ দক্ষ যুবক যুবতীদের নিয়ে তৈরি করা হয়েছিল সিভিক পুলিশ। এবার একইরকম ভাবে স্কুল শিক্ষকদের ঘাটতি পূরণের জন্য সিভিক শিক্ষক চালু করতে চলেছে রাজ্য সরকার।

এই সিভক শিক্ষক পদে যুক্ত হবার জন্য যোগ্যতা কি প্রয়োজন? মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, কলেজ পাশ করার পর স্কুলে শিক্ষকতায় শিক্ষানবিশি করতে পারবেন যুবক-যুবতীরা। কত টাকা করে মাইনে পাবেন তারা? জানা যাচ্ছে, প্রাথমিকে শিক্ষানবিশ শিক্ষক পাবেন ২০০০ টাকা। মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষানবিশ শিক্ষক পাবেন মাসে ২৫০০ টাকা। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ও উপাচার্যদের সঙ্গে বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন এই নতুন শিক্ষানবিশ শিক্ষক প্রকল্প টি।




এই নিয়ে এই মুহূর্তে শুরু হয়েছে শুরু হয়েছে নানা বিতর্ক। শুধুমাত্র কলেজ গণ্ডি টপকে গেলেই কি মিলবে এই চাকরি? চাকরি আবেদনকারী দের গুণমান কি ভাবে নির্ধারিত হবে? যারা কাজে যোগ দেবেন, তাদের কি অস্থায়ী হিসেবেই কাজ করতে হবে? ২৫০০ টাকায় একজন শিক্ষানবিশ শিক্ষকের পরিবার কি করে চলবে? যারা শিক্ষক হবেন, তারা আদেও যোগ্য কিনা কিভাবে নির্ধারণ করা হবে? সিভিক ভলান্টিয়ারের মত, এখানে ও কি শাসক দলের কাছের লোকেরাই বাড়তি সাহায্য পাবে? একাধিক অনেক প্রশ্ন তৈরি হয়েছে ছাত্র ছাত্রী দের মধ্যে।

এই বিষয়ে কটাক্ষ করে সিপিআই(এম) শ্যামল চক্রবর্তী লিখেছেন "একঢিলে কত পাখি ১) পুরো বেতন দিতে হবে না। ২) বেনামে ঠিকা শ্রমিকের আদলে নাম বদলে ঠিকা শিক্ষক নিয়োগ। ৩) নিজের দলের কর্মীদের নিয়োগ করা। ৪) এই সুযোগে বিভিন্ন স্তরের দলীয় নেতাদের কিঞ্চিৎ কামিয়ে নেবার সুযোগ। ৫) কর্মপ্রার্থীদের পরীক্ষা নিয়ে সরকারের কাপড়ে-চোপড়ে হবার আশঙ্কা থাকছে না। ৬)শিক্ষার মান ঠিক রাখার দায় নেই। এর ফলে শিক্ষার কী হাল হবে তা বুঝতে বিশেষজ্ঞ হওয়ার দরকার নেই। এসব সিদ্ধান্ত অবলীলাক্রমে অনুমোদন করেন উপস্থিত সর্বোচ্চ শিক্ষাবিদরা। মনে পড়ে গেল ৭০ দশকে Extra Constitutional power নিয়ে দিল্লি থেকে কলকাতায় আসা এক অশিক্ষিত তরুণের ডাকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক তথাকথিত বুদ্ধিজীবী সভায় চোখে চকচকে লোভ নিয়ে আসা অধ‍্যপকে থেকে উপাচার্যদের ভূমিকা। সেই ট্রাডিশন সমানে চলছে।"

এই নিয়ম চালু হলে, এক জন পূর্ণ শিক্ষক কে যে পরিমাণ অর্থ সরকার কে দিতে হয়, সেই টাকায় ৫ টি করে শিক্ষানবিশ শিক্ষক কে নিয়োগ করা যাবে। যার ফলে সম কাজ করেও সম বেতন পাবেন না শিক্ষানবিশ শিক্ষকরা। অর্থ বাঁচাতে ছাত্র দের ভবিষ্যৎ কাদের হাতে তুলে দিতে চাইছে সরকার? এখন ও মেলেনি স্পষ্ট কোন ধারনা। এই কি বলছেন SFI DYFI এর নেতারা দেখে নিন