মমতার আঁকা ছবি প্রসঙ্গে মুকুল রায়কে ফের জিজ্ঞাসাবাদ করতে চলেছে সিবিআই ও ইডি।

১০দিক২৪ ব্যুরোঃ গত বুধবার কলকাতা বইমেলার উদ্বোধনে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবী করেছেন তিনি সাংসদের পেনশন নেননা। বিয়ের রয়্যালটি ও গানের সুর দিয়ে তার চলে যায় কিন্তু তাতে যে চিঁড়ে ভেজেনি তা স্পষ্ট হয় তাঁর ঘনিষ্ঠ মানিক মজুমদারের বাড়ীতে গিয়ে সিবিআই এর তাকে জেরা করায়। এবার হয়ত জেরার মুখে পড়তে চলেছেন মুকুল রায়। আর সেটা হলে তৃণমূলের ক্ষেত্রে ভোটের মুখে যে খুব একটা সুখকর হবেনা তা বলাই বাহুল্য।



প্রসঙ্গত বৃহস্পতিবার তৃণমূলের মুখপত্র জাগো বাংলার অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত জিজ্ঞাসাবাদ চালাতে মানিক মজুমদারের কালীঘাটের বাড়ীতে যান সিবিআই আধিকারিকরা। এর আগে বহুবার মানিক বাবুকে ডাকা হলেও তিনি তার বয়স ও শারীরিক অসুস্থতার দোহাই দিয়ে উপস্থাত হননি। তাই সরাসরি তাঁর বাড়ীতেই তাকে জেরা করা হয়।

সত্তরোর্ধ মানিক বাবু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও জাগো বাংলার অ্যাকাউন্টের অন্যতম অ্যাকাউন্ট হোল্ডার। জানা গিয়েছে জেরায় তিনি জানিয়েছেন তিনি যা করেছেন তৎকালীন তৃণমূলের হেভিওয়াট নেতা মুকুল রায়ের কথায় করেছেন। পুরো বিষয়টি মুকুল রায়ের তত্বাবধানেই হত। এখানেই প্রবল সম্ভাবনা দেখা গেছে বর্তমান বিজেপি নেতৃত্ব মুকুল রায়কে ফের জেরা করার।



ভেঙ্কটেশ ফিল্মসের মালিক শ্রীকান্ত মেহতা গ্রেফতারের সাথে সাথে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আঁকা ছবি নিয়ে ফের বিতর্ক শুরু হয়েছে। শ্রীকান্তবাবু দাবী করেছেন তিনি বেশ উচ্চমূল্যে তৃণমূল নেত্রীর আঁকা ছবি কিনেছিলেন। এই দাবী অন্যান্য চিটফান্ডের মালিকরাও করেছিলেন। সিবিআইএর ধারণা ওই অর্থের একটা বিপুল পরিমাণ জাগোবাংলার অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে। তাই মুকুল রায়কে ফের জিজ্ঞাসাবাদ করে খতিয়ে দেখতে চায় সিবিআই ও ইডি। মুকুল রায়ের জেরা তৃণমূলের জন্য অশনি সংকেত বয়ে আনতে পারে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তবে যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দোষী প্রমাণিত হন, তাহলে মুকুল রায় দল পাল্টে অভিযোগের কালি কতটা মুছতে পারবেন? এই নিয়েও তৈরি হচ্ছে প্রশ্ন।