বেহাল চন্ডিতলা রোড। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পথ চলছে মানুষ।

১০দিক২৪ ব্যুরোঃ  গর্তে ভরা চন্ডীতলা রোড, নওগা মোড় থেকে শুরু করে বড়া ইস্কুল মোড় পর্যন্ত রাস্তার বেহাল দশা। তারমধ্যেই ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত আর দূর্ঘটনার মধ্যেই কাটাচ্ছেন মানুষ।পড়ন্ত বিকেলে চন্ডীতলা রোডের ধারে চায়ের দোকান। ছবি তুলতে দেখে চায়ের দোকান পেছনে ফেলে এগিয়ে এলেন এলাকাবাসী পিন্টু দাস। তিনি বললেন, এলাকাবাসীদের তরফ থেকে বার বার জানানো হয়েছে তাও কোন ব্যাবস্থা নেয়নি প্রশাসন তিনবছর হয়ে গেলো রাস্তার হাল যে তিমিরে ছিলো সেই তিমিরেই।"বেলু শ্রমজীবী হাঁসপাতাল থেকে কিছুটা এগিয়েই একচিলতে মুদিখানার দোকান। ডাকতেই বেরিয়ে এলেন দোকানী কল্যানী পাল। তিনি জানান এমন রাস্তা পেশেন্ট নিয়ে যাওয়া যাচ্ছেনা। টোটো উল্টে নিত্যদিন দূর্ঘটনা ঘটেই চলেছে।




ইঁটের খোয়া ঝামা পাথর রোলার দিয়ে চেপে, তাপ্পি মারা গোছের আলগাভাবে রাস্তার গর্ত ভরাট হলেও মাত্র তিন-চার দিনের বৃষ্টিতেই আবার যে কে সেই অবস্থা।এলাকার বাসিন্দা লাল্টু চৌধুরি জানান পি ডব্লু ডির কন্ট্রাক্ট যারা নিয়েছে তাদের জিজ্ঞাসা করলাম এভাবে গর্ত ভরাট করছো এগুলো আর কতদিন টিঁকবে? তারা বলছে আমাদের অর্ডার অতটুকুই করার আমরা কি করবো!তিন বছর ধরেই বড়া চন্ডীতলা রোডের এই বেহাল দশা। রাস্তার দেখভালের দায়িত্বে রয়েছে পি.ডব্লু.ডি। বেশ কয়েকবার এলাকাবাসীদের তরফ থেকে ও ডি ওয়াই এফ আই ও এস এফ আইয়ের শেওড়াফুলি শাখার তরফ থেকে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ কর্মসূচি হয়। স্বাক্ষর সংবলিত স্মারকলিপি পি ডব্লু ডি অফিস তথা এস ডি ও কে জানানো হয় এমনকি দরবার করা হয়। তাও কোন উদ্যোগ নেই প্রশাসনের। পি ডব্লু ডি দপ্তরের তরফে জানুয়ারি মাসের মধ্যে রাস্তা সারাইয়ের প্রতিশ্রুতি দিলেও আলগা ভাবে গর্ত ভরাটের কাজ ছাড়া কিছুই হয়নি।

রোজ শত সহস্র ভারী গাড়ির যাতায়াত করে। গোটা জেলার লক্ষাধিক মানুষ নিত্য যাতায়াত করেন। রাস্তার পাশেই রয়েছে পেয়ারাপুর ফাঁড়ি, বেলু পোষ্ট অফিস, বেলু শ্রমজীবী হাঁসপাতাল প্রাইমারি স্কুল সহ একাধিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ৩১-৪০-২৬ সহ একাধিক বাস সহ বহু স্কুলবাসও যাতায়াত করে এই রাস্তা দিয়ে। গর্তের জেরে বেশিরভাগ গাড়িই বিপজ্জনক ভাবে হেলে যাচ্ছে। এব্যাপারে এলাকার বাসিন্দা ও সি.পি.আই(এম) হুগলী জেলা কমিটির সদস্য দীপ্তি চ্যাটার্জি ও বৈদ্যবাটি-শেওড়াফুলি এরিয়া কমিটির অন্তর্গত ১৯ নং শাখার সম্পাদক অরিন্দম ঘোষ কে জিজ্ঞাসা করা হলে তারা জানান, নতুন পিচ করে দেওয়ার পরে তিন দিনের মধ্যেই গর্ত হয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই এই অবস্থা চলছে। আগামীদিনে এর প্রতিবাদে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা ছাড়া প্রশাসন কোন রাস্তা খোলা রাখেনি।