কেন্দ্রীয় সরকার প্রকল্প দেয় আর দিদি তার উপর নিজের স্টিকার লাগান : মোদি

১০দিক২৪ ব্যুরোঃ নদিয়াতে আজ সভা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।নদিয়ার তাহেরপুরে দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে নির্বাচনী জনসভা করলেন তিনি।সেখান থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করেন তিনি।এর আগে,মমতাকে স্পিডব্রেকার বলেছিলেন।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর সভা থেকে মোদিকে আক্রমণ শানালে তিনিও আজ স্টিকার দিদি বলে কটাক্ষ করেন তৃণমূল নেত্রীকে।সাথে বামফ্রন্ট তৃণমূল এবং কংগ্রেসকে উদ্দেশ্য করে বলেন,"তৃণমূল, বাম ও কংগ্রেস এদের দেওয়া প্রতিটি ভোট সিন্ডিকেটকে মজবুত করবে।আপনাদের ভোট চৌকিদারকে মজবুত করতে পারবে।সন্ত্রাসবাদ,গুন্ডাগিরি খতমের জন্য চৌকিদারকে মজবুত বানাতে হবে।সারদা, নারদের টাকায় প্রধানমন্ত্রীর কুর্সি কেনা যায় না।মনে হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী কুর্সির নিলাম হচ্ছে।

এই সভা থেকে মমতা ব্যানার্জীর বিরোধিতা করে বলেন, "আজ যত নেতা দেখতে পাচ্ছেন, কেউ ৪০ আসনে লড়ছে, কেউ ৩৫ আসনে লড়ছেন, কেউ ২৫ আসনে লড়েছন,আর বলছেন প্রধানমন্ত্রী হব। সন্ত্রাসবাদকে ঘরে ঢুকে মারা আপনাদের ভালো লেগেছে?আপনারা কি মজবুত ভারত চান?প্রতিটি ভোট মোদির খাতায় জমা পড়বে।দেশকে মজবুতের জন্য বিজেপিকে ভোট দিতে হবে। দিল্লিতে মজবুত সরকারের জন্য আমাদের ভোট দিতে হবে।মেয়েদের ধর্ষণ করলে তাকে ফাঁসির শাস্তি দেওয়ার আইন করেছে মোদি সরকার।চাকদা এক্সপ্রেস ঝুলন গোস্বামীর মতো দুনিয়াতে দৌড়বেন আপনারা। নতুন ভারতের জন্য আপনাদের এগিয়ে আসতে হবে।যিনি গরিবদের প্রকল্প কেড়ে নিচ্ছেন,তাঁর নিচ থেকে কুর্সি কেড়ে নিন। এটা অসুস্থতার প্রমাণ যে গরিবের অসুস্থতার প্রকল্প নিয়ে নিচ্ছেন দিদি।দিদির সরকার চলে গেলে তাতে কাজে আরও গতি আসবে"।

তিনি আরও বলেন, "২০২২ সালে দেশে এমন একজনও গরিব থাকবে না যাঁর কাছে পাকা ঘর থাকবে না।আমি খবর পেয়েছি, তাতেও তৃণমূল নেতারা বদমায়েশি করছে।দেশে পাকা বাড়ি বানানোর জন্য কেন্দ্র প্রকল্প নিয়েছে।তোলাবাজি, ট্যাক্স লাগায় দিদি, তার উপর শুধু নিজের স্টিকার লাগান।বিনামূল্যে বিদ্যুতও এই চৌকিদার দিচ্ছে।আর দিদি তার উপর নিজের স্টিকার লাগান।আমি গরিবি বইতে পড়িনি, আমি সেই জীবন কাটিয়েছি।দেশের ৭ কোটি গরিব মা-বোনেদের LPG কানেকশন দেওয়া হয়েছে।এর মধ্যে ৭০ লাখ বাংলার মা-বোন রয়েছেন।এটা শুধু আমাদের সরকার ভেবেছে।৬০ বছরে কংগ্রেস আগে কখনও তাঁদের বিষয়ে ভাবেনি।৬০ বছরের পর পেনশন দেওয়া হবে। অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের জন্য এই প্রকল্প চালু করা হয়েছে। পেনশন যোজনা করা হয়েছে।এটা কেন্দ্র সরকারের প্রকল্প।সেজন্য সিন্ডিকেটের কাছে যেতে হবে।দেশের ২১ কোটি মানুষ এই বিমার আওতায় রয়েছেন।এর মধ্যে বাংলার ৮০ লাখ মানুষ রয়েছেন।গরিবদের 2 লাখ টাকার বিমা করা হয়েছে।বিমা সুরক্ষা আগে ধনীদের জন্য ছিল।আমাদের সরকার গরিবদের।তাই গরিবের জন্য বিমা প্রকল্প চালু করেছে।দেশের স্বার্থে একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়েছি।এই ভাবনার উপর ভিত্তি করে আমরা সরকার চালিয়েছি।বিজেপি মজুবত ও সংবেদনশীল সরকারের পক্ষে রয়েছে।যারা ভারতের স্মরণে এসেছেন, তাঁদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। কংগ্রেস যে ভুল করেছিল,তা ঠিক করবে এই চৌকিদার।সিন্ডিকেটের জোরেই তৃণমূল ক্ষমতায় রয়েছে। রেশন কার্ড, শিক্ষা, চাকরি, সরকারি প্রকল্প সবকিছুর জন্য সিন্ডিকেটের কাছে যেতে হয়।

মোদি আরও বলেন যে, "রেশন কার্ড, শিক্ষা, চাকরি, সরকারি প্রকল্প সবকিছু থেকে মতুয়াদের বঞ্চিত রাখা হচ্ছে।নিজের ভোটব্যাঙ্ক টিকিয়ে রাখতে মতুয়াদের বঞ্চিত করা হচ্ছে।দিদির দেশ বিরোধী মনোভাব কখনও সম্ভব হবে না।কিন্তু দিদি ভয় পেয়েছেন যে চৌকিদার সতর্ক রয়েছেন।আর এখন অনুপ্রবেশকারীদের সবচেয়ে বড় রক্ষক হয়ে গেছেন।আগে সংসদে অনুপ্রবেশকারীদের আটকাতে চোখের দল ফেলতেন দিদি।ক্ষমতার জন্য কেউ কেমন পালটি খেতে পারেন, তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ দিদি।বাংলার মানুষের অধিকারের উপর যারা হাত বসিয়েছে, তাদের ছাড়া হবে না।পাশাপাশি, NRC অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করা হবে। তাদের জনতাই এখানে আটকে দেবে।নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল আগেরবার যে তৃণমূল, কংগ্রেস,বাম আটকে দিয়েছিল,তারা এখানে হারবেন। বাংলাকে আশ্বাস,নেতা হোক বা যেই হোক না কেন সারদা, নারদা, রোজ়ভ্যালির যোগ যাঁদেরই থাকবেন তাঁদের কাউকে ছাড়া হবে না। দিদি ভাবতেন, দিল্লিতে মজবুত সরকার বানালে চিটফান্ডের শৃঙ্খল থেকে বেরিয়ে যাবেন।চিটফান্ডের নামে যারা গরিবদের টাকা লুটেছে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।দেশের প্রতিটি চৌকিদার দাঁড়িয়ে রয়েছে।আপনারা ভয় পাবেন না,আপনার সঙ্গে বাংলার জনগণ দাঁড়িয়ে রয়েছে।কমিশন, ভোটকর্মীদের ধন্যবাদ আপনারা এই পরিস্থিতিতেও কাজ করছেন। বিজেপি যদি ভয় পেতেন তাহলে কেন্দ্রে দুই দলের সরকার হত। গণতন্ত্রে হিংসার জায়গা নেই।আমরা তো বলিদান দিয়ে এসেছি আমরা ভয় পাই না।এমন যদি হত তাহলে বিজেপি ক্ষমতায় আসত না।তৃণমূল মনে করেছে এবারও তরোয়াল, অস্ত্র দিয়ে আমাদের কর্মকর্তাদের ভয় দেখানো যাবে।গুন্ডাদের জন্য মমতা, জনগণের জন্য নির্মমতা।আমাকে অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে এই পবিত্র ভূমিকে মানুষের রক্তে রাঙা করা হচ্ছে।বাংলার যে মানুষরা দিদিকে এত সম্মান দিলেন তাঁদেরকেই ধাপ্পা দিলেন দিদি।দিদি শুধুমাত্র স্লোগান নিশানা বদলেছেন কিন্তু বামেদের মতোই কাজ করছেন।আরও বাজে কাজ করছেন।তখন বামেদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে বাংলার জনতা চোখ বন্ধ করে দিদিকে ভোট দিয়েছিল।সেনার নিরাপত্তায় ভোটের দাবি তোলেন।সেনা মোতায়েনের দাবি তুলেছিলেন।২০০৯ সালে এই দিদিই বাংলা রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবি তুলেছেন।দিদির মন্ত্রী আমাদের জওয়ানের উপর হামলা চলানোর জন্য উস্কানি দিচ্ছেন।আমাদের সুরক্ষাবলের উপর অভিযোগ আনছেন দিদি।এবার বাঁচা মুশকিলই নেহি, না মুমকিন হ্যায়। বিদেশি শিল্পী, ভাড়াটে গুন্ডাদের উপর ভর করেই দিদি ক্ষমতায় রয়েছেন।দিদির যেটুকু আশা বেঁচেছিল, তিনটে দফায় নির্বাচনে তাও কমে গেছে।দিল্লিতে বসে কেউ কল্পনা করতে পারবে কি, বাংলায় এত বড় বিজেপির ভিড়।ঠাকুরনগরে এসেছিলাম, এত ভিড় ছিল যে আমার মনে হচ্ছিল এত ভিড়ে কারও ক্ষতি হয়ে না যায়।চৈতন্য মহাপ্রভুর জন্মভূমি,কীর্তিবাসের ভূমিকে আমি মাথা ঝুঁকিয়ে প্রমাণ করছি।নমস্কার, আপনারা কেমন আছেন? এত ভিড় ছিল যে,জিপ থেকে আমায় একপ্রকার রোড শো করতে হল।মনে হচ্ছে, বাংলায় ঝড় চলছে"।