মাওবাদী অঞ্চলেও বিরোধী এখন বিজেপি

২০১১ সালের মে মাসে রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর তৃণমূল কংগ্রেস জঙ্গলমহলের মাওবাদী অধ্যুষিত অঞ্চলে বামফ্রন্ট কে মুছে দিয়ে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছে। কিন্তুু এখন এই অঞ্চলে তৃণমূল কংগ্রেসের ভোট কেটে দ্বিতীয় স্থানে বিজেপি। পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং বাঁকুড়া জেলার জয়রাশি রাজ্যগুলির মধ্যে জয়লাভ করে মোট আসনের প্রায় ৪০% ভোট পেয়েছে বিজেপি।প্রধানত এটি একটি উপজাতীয় মানুষ দ্বারা প্রভাবিত অঞ্চল। বিজেপির ঝাড়গ্রাম জেলা সভাপতি সুখামে সাতপথী জানাচ্ছেন-"আমরা এই ঘটনার বিরুদ্ধে প্রচার চালাতাম যে, যারা মাওবাদীদের মতো এলাকায় সন্ত্রাসী ছিল তারাই তৃণমূল হয়ে এলাকা শাসন করছে। পাশাপাশি, তৃণমূলের দুর্নীতি, মানুষের পাশে থাকার অভাব, এলাকার উন্নয়ন না করা এই শাসনের বিরুদ্ধে বিজেপির উত্থাপনের জন্য মাটি উর্বর রেখেছে।ঝাড়গ্রামের ৮০৬ টি গ্রাম পঞ্চায়েত আসনে বিজেপি ৩২৯ পেয়েছে, তৃণমূল ৩৯৯ এবং বামেরা পেয়েছে ১৪ টি আসন ।পঞ্চায়েত সমিতির ১৮৭ টি আসনের মধ্যে তৃণমূল ১০৪, বিজেপি ৭৩ ও বামেরা পেয়েছে ২ টি আসন ।জেলাপরিষদে ১৩ টি আসনের মধ্যে তৃণমূল ১৩ এবং বিজেপি পেয়েছে ৩ টি আসন । ঝাড়গ্রামের সঙ্করীল, ২০০৯ সালে মাওবাদীরা পুলিশ স্টেশনে হামলার সময় দুই পুলিশ সদস্যকে হত্যা করার পর অফিসার ইনচার্জকে অপহরণ করে, যেখানে তিনটি স্তরে জয়লাভ করে বিজেপি।
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সালবনি পঞ্চায়েত সমিতির এলাকার ভীমপুর পঞ্চায়েত মাওবাদীদের একটি দুর্গ ছিল। ২০০৮ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে পঞ্চায়েত প্রধানের নামে মাওবাদীদের সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগে অভিযুক্ত হন, ২০১১ এবং ২০১৩ সালে সালবনি এমপি হিসেবে নির্বাচিত হন তিনি। এখন ভীমপুর থেকে তৃণমূলকে পরাজিত করেছে বিজেপি। সালবনিতে মোট ১০ টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে বিজেপি চারটি পেয়েছে।