আগামী কাল কি ঠিক হবে ভাবাদিঘির ভবিষ্যত?

১০দিক২৪ ব্যুরোঃ এক সময় হাওড়া থেকে তারকেশ্বর আরামবাগ হয়ে বিষ্ণুপুর পর্যন্ত নতুন রেললাইন তৈরির কথা ঘোষণা করেন তৎকালীন রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ৭০০ কোটি টাকা অনুমোদনও করেন তিনি। সেই অনুযায়ী কাজ শুরু হয়। বর্তমানে হাওড়া থেকে গোঘাট পর্যন্ত ট্রেনও চলছে। কিন্তু গোঘাটের ভাবাদিঘির উপর দিয়ে রেললাইন তৈরি করতে গিয়েই সমস্যা তৈরি হয়েছে। ভবাদিঘি পুকুরটির মালিকপক্ষ পুকুরের জমি দিতে রাজি নয়। এখানে ৩ একর জমি জটে থমকে রেললাইন পাতার কাজ। জমির মালিকদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল দিঘির পাশ দিয়ে রেলপথ তৈরি করতে হবে। এনিয়ে একাধিকবার প্রশাসনিক স্তরে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু, কোনও সুরাহা হয়নি। ১৬০জন মালিকের মধ্যে ৯১জনের আপত্তিতে থমকে রয়েছে কাজ।

গ্রামবাসীদের প্রবল আপত্তি সত্ত্বেও জোর করে দিঘি বুজিয়ে রেলপথ পাততে মরিয়া প্রশাসন। গত কয়েক বছর ধরেই দিঘি বাঁচানোর জন্য লড়ছেন গ্রামের মানুষ। তাই সরকারের ‘উন্নয়নের’ ছিটেফোঁটা নেই গ্রামে। মিশন নির্মল বাংলা প্রকল্প থেকে পাকা শৌচালয় বানানো হয়েছে হাতে গোনা। ইন্দিরা আবাস যোজনার টাকা পাননি গ্রামের মানুষ। তবু দিঘির জন্য লড়াই থেকে সরতে নারাজ গ্রামবাসিরা।





বর্তমানে ভবাদিঘি সংক্রান্ত হাইকোর্টে একটি মামলা চলছে। আর এর মাঝেই আগামী কাল ভাবাদিঘির জট কাটাতে হুগলীর গোঘাটে রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে এক বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে। আগামী কাল ১৯৫৫ সালে স্থাপিত দিঘির পাড়ে ভবাদিঘি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই সভাটি ডাকা হয়েছে।

জানা যাচ্ছে এই সভায় রাজ্য পরিবহণ দফতরের চিফ সেক্রেটারি , পূর্ব রেল চিফ ইঞ্জিনিয়ার, আরামবাগের সাংসদ, গঘাটের বিধায়ক সবাই উপস্থিত থাকবেন। গ্রামবাসী দের ও এই সভায় যোগদেবার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। কিন্তু গ্রামবাসি দের এতে মন গলেনি, তাদের ভাবাদিঘি বাঁচাও কমিটির পক্ষ থেকে রাজু পণ্ডিত জানান "রেল লাইন তৈরির বিপক্ষে আমারা নই, তবে ভবাদিঘি বুঝিয়ে না। দিঘির উত্তর দিক থেকে লাইন গেলে আমরা সহযোগিতা করবো।" তবে তারা এই সভায় যোগ দেবেন কিনা এনিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। আর এই সভায় যদি গ্রামবাসিরা যোগ না দেন তবে এই সভা ডাকার আসল কারণ মাঠে মারা যাবে বলেই মত রাজনৈতিক মহলের। এখন দেখার গ্রামবাসী রা কি ভূমিকা নেন, গ্রামবাসী দের সিদ্ধান্ত ই ঠিক করবে ভবাদিঘির ভবিষ্যত।