জমি আন্দোলন করে ক্ষমতায় আসা, মমতার পরিবারের বিরুদ্ধেই উঠছে জমি দখলের অভিযোগ।

১০দিক২৪ঃ জোর যার মুলুক তারের রাজত্বে পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে, যেখানে হাইকোর্টের রায়ও উল্টে অভিযুক্তের পক্ষে হয়ে যাচ্ছে। অবশ্য মামলায় অভিযুক্তের নাম যদি অজিত ব্যানার্জি হয় ও পরিচয় হয় মুখ্যমন্ত্রীর ভাই, তবে এ ঘটনা ঘটা অসম্ভব কিছু নয় বলেই মনে হয়।

হ্যাঁ ঠিক এই ঘটনাই ঘটছে হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে বংশানুক্রমিক ভাবে বসবাসকারী হাজরা পরিবারের সাথে। জমি সংক্রান্ত ঘটনায় বারবার হয়রানির মুখে পরতে হচ্ছে তাদের। আইনত হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের ১০,১১,১২ ও ১৩ নং প্লটের মালিক এই হাজরা পরিবার। যেখানে তাদের পারিবারিক নির্মাণ সামগ্রীর ব্যবসা ও গ্যারাজ ছিল। এই জমিটিতেই চোখ পড়ে অজিত ব্যানার্জির। এরপর পুলিশ প্রশাসনের সাহায্যে জোর করে জমি দখল করে নেওয়া হয়। বন্ধ করে দেওয়া হয় গ্যারেজ ও ব্যবসাও। হাজরা পরিবারের ওপর লাগাতার হুমকি ও অত্যাচার চলতে থাকে এ ব্যপারে মুখ না খোলার জন্য।

হাজরা পরিবারের পক্ষ থেকে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করা হলে গত শুক্রবার বিচারপতি রাজশেখর মানতা জমির ওপর স্থগিতাদেশ জারি করেন। স্পষ্ট জানানো হয় যে ওই জমিতে কোনোরকম নির্মাণকার্য করা যাবেনা বা জমির চরিত্রও বদলানো যাবেনা। প্রসঙ্গত এ ব্যপারে এর আগেও ২০১৭ সালের ৮ই সেপ্টেম্বর বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী তার রায়তে একই কথা বলেছিলেন। কিন্তু তখন এলাকায় ও জমিতে নোটিস দিয়ে অজিত ব্যানার্জি জানিয়ে ছিলেন আদালত তাকে জমির দখল নিতে বলেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আবার মামলা দায়ের করেন জমির মালিক রঞ্জন হাজরা। কলকাতা হাইকোর্টে আবেদনকারীর পক্ষে সওয়াল করেন আইনজীবী সব্যসাচী চ্যাটার্জি ও সৌরভ মণ্ডল।

শুক্রবারের রায়ের পর অজিত ব্যানার্জি জমির দখল নিতে আরও সক্রিয় হয়ে ওঠেন। পুলিশে এফ আই আর করা হলেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলেই অভিযোগ হাজরা পরিবারের।