চা শ্রমিক দের চাহিদা মেটাতে, পুরনো ছন্দে ফিরলো সিপিএম।

১০দিক২৪ ব্যুরোঃ সালটা ২০১৫, পাহাড় জুড়ে চলছে মৃত্যু মিছিল। তখন থেকেই চা বাগানের শ্রমিক দের অনাহারে মৃত্যুর সম্মুখীন হওয়াটা একটা প্রতিদিনের গা সওয়া ব্যাপার হয়ে দাঁড়াচ্ছিল। তখন শিলিগুড়ির মেয়র তথা সিপিএম নেতা অশোক ভট্টাচার্য, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে জানিয়েছিলেন "উত্তরবঙ্গ উৎসবে কোটি কোটি টাকা নষ্ট না করে সেই টাকা দিয়ে রুগ্ন ও বন্ধ চা-বাগানগুলির শ্রমিকদের উন্নয়নে খরচ করাটা বেশি শ্রেয়। মুখ্যমন্ত্রী বলছেন, চা-বাগানগুলিতে যারা মারা যাচ্ছেন, তাঁরা চা-শ্রমিকদের পরিজন। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর জানা উচিত, চা-বাগানের একটি শ্রমিকের পুরো পরিবারই চা-বাগানে কাজ করে থাকেন।"

এর সময় সময় কেটেছে কিন্তু চা বাগানের অবস্থার পরিবর্তন ঘটেনি। “সরকারি খরচে মেলা আয়োজনের তামাশা বন্ধ করা হোক। অধিগ্রহণ করে চালু করা হোক বন্ধ বাগান।” এই দাবি নিয়ে একাধিকবার পথে নেমেছে শ্রমিকরা তবে সে আওয়াজ কানে পৌছায়নি সরকারের। শ্রমিক দের দাবি যেখানে উত্তরবঙ্গের অর্থনীতির মূলে রয়েছে চা শিল্প সেখানে রাজ্য সরকার এই শিল্পটা বাঁচানোর জন্য কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

এই এবার সেই চা শ্রমিক দের চাহিদা মেটাতে জঙ্গি আন্দলনের পথ নিচ্ছে সিপিএম। তাই আজ উত্তরবঙ্গের যুগ্ম-শ্রম কমিশনারের দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ দেখান তারা। শুধু বিক্ষোভ না, অনাহারে থাকা চা শ্রমিক দের সংগঠিত করে ৬ঘন্টা ধরে ঘেরাও করে রাখলেন ডানকান গোষ্ঠীর মালিকানাধীন ৪টি চা বাগানের শ্রমিকরা। যার প্রধান নেতৃত্ব দেয় সিপিএমের শ্রমিক সংগঠন সিটু। হাতে লাল ঝান্ডা নিয়ে এই বিক্ষোভ দেখায় তারা।

তাদের দাবি গত ৪বছর ধরে এই শ্রমিকরা নিয়মিতভাবে তাঁদের বেতন পাচ্ছেন না, বকেয়ার পরিমাণ প্রায় ২০কোটি টাকা। শ্রমিক সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে বারবার দাবি জানানো সত্ত্বেও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কোনো আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না।

৬ঘন্টা টানা বিক্ষভের পর, সরকারের পক্ষ থেকে যত দ্রুত সম্ভব ট্রেড ইউনিয়নগুলির জয়েন্ট ফোরামের সঙ্গে এবিষয়ে বৈঠকে বসার আশ্বাস পাওয়ার পরই এদিন ঘেরাও প্রত্যাহার করা হয়। নতুন করে উত্তরবঙ্গে পুরনো ছন্দে ফিরছে সিপিএম। চা বাগানের চাহিটা মেটাতে যেভাবে একটানা ৬ ঘণ্টা অবস্থান করে অধিকার ছিনিয়ে নিল সিপিএম, তাতে ভালো ভাবে বাঁচার স্বপ্ন দেখছে চা শ্রমিকরা।