পেটভরা খাবার মিলছে মাত্র পাঁচ টাকাতেই।

১০দিক২৪ ব্যুরো: বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা নাগাদ একটি ছোটো ট্রাক এসে দাঁড়ায় চুঁচুড়া ইমামবাড়া হাসপাতালের সামনে। ট্রাকের গায় নাম লেখা 'গরীবের রান্নাঘর'। আর এই 'গরীবের রান্নাঘর'ই বন্ধুর মত সব ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে তুলে দিল দুপুরের ভাত-ডাল-তরকারী। তাও মাত্র পাঁচটাকায়।

যেহেতু ইমামবাড়া হাসপাতাল হুগলী জেলার সদর হাসপাতাল, তাই রোগীর চাপ টাও এখানে বরাবরই বেশী। রোগীদের খাদ্যের ব্যবস্থা হাসপাতাল থেকে হয়ে গেলেও সমস্যায় পড়েন রোগীর সঙ্গে আসা আত্মীয়রা। হাসপাতালের আশেপাশে কোথাও সস্তায় খাবার ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে তাদের ঘড়ির মোড়ের দিকে এসে বেশী টাকা খরচ করে খাবার খেতে হয়। অনেকের আবার সে সঙ্গতি না থাকায় অর্ধেক দিন থাকতে হয় খালি পেটেই।

তাই তাদের মুখে ভাত তুলে দেবার জন্যই এই অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন হাসপাতালেরই অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবার সাথে যুক্ত লোকজন। তাঁরা জানিয়েছেন মূলত গরীব রোগীদের আত্মীয়দের কথা ভেবেই তাঁদের এ উদ্যোগ। তবে পথচলতি যেকোনো মানুষই পাঁচটাকার বিনিময় খেতে পারবেন।

উদ্যোক্তাদের তরফ থেকে শেখ ঝন্টু নামক এক অ্যাম্বুলেন্স চালক জানিয়েছেন যে তাঁরা কোনো ব্যবসায়িক লাভের জন্য এই উদ্যোগ নেননি। তাঁরা তাদের উপার্জনের টাকা থেকেই কিছু অংশ বাঁচিয়ে সবার মুখে অন্ন তুলে দিতে চান। প্রায় ৬০জন এই কর্মকান্ডের সাথে যুক্ত। প্রত্যেকেই কিছু করে সাহায্য করে তাঁরা এই কাজ করবেন।

বৃহস্পতিবার প্রথমদিন গরীবের রান্নাঘরের মেনু ছিল ভাত, মুগের ডাল, আলুপটলের তরকারী, চাটনি, পাঁপড়, পায়েস। এদিন অনেকেই পাঁচটাকার কুপন কেটে খাবার খেলেন। উদ্যোক্তাদের দুহাত ভরে আশীর্বাদ ও করলেন তাঁরা। উদ্যোক্তাদের তরফে জানানো হয়েছে গরীবের রান্নাঘর এখন সপ্তাহে একদিন হলেও পরে রোজ এই খাবারের বন্দোবস্ত করার চেষ্টা তাঁরা করবেন। এত মানুষের আশীর্বাদ পেয়ে তাঁরা আপ্লুত।