মুখ্যমন্ত্রীর কপালে ভাঁজ, মদন-সুদীপের পর এবার কি মমতা? সরকারের পদক্ষেপে বাড়লজল্পনা।

১০দিক২৪ ব্যুরোঃ রাজনীতির ময়দানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিচক্ষণ নেত্রী হিসেবেই পরিচিত। রাজনৈতিক সমীকরণ আগে থেকে বুঝে নিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবার অনেক নজীর গড়েছেন এই পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদ। সামনে লোকসভা ভোট একদিকে দল কে যেমন সাজাচ্ছেন তিনি, তেমনই সারদা, নারদার মত কেলেঙ্কারির মত দুর্নীতিতে থেকে দলের নেতাদের বাঁচাবার চেষ্টা ও করছেন তিনি।

একাধিক বার সিবিআই এবং বিজেপির গোপন আঁতাতের অভিযোগ তুলেছেন তিনি। তাই লোক সভা ভোটের আগে কিছুটা চিন্তার ভাঁজ দেখা যাচ্ছে তার কপালে। ইতি মধ্যেই দলের একাধিক হেভি ওয়েট নেতাকে জেল খাটতে হয়েছে। ভোটের আগেই দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে বিজেপি আসরে নামে নারদার ভিডিও নিয়ে। তাই তৃণমূল নেত্রী হয়ত মনে করছেন লোকসভা ভোটের আগে তাঁকে ও ফাঁসানো হতে পারে। জল্পনা উঠেছে, তাই কি নতুন আইন এনে নিজেকে এবং দলের নেতাদের সুরক্ষিত করার চেষ্টা চালিয়েছেন তিনি?

গতকাল লোকায়ুক্ত সংশোধনী বিল বিলি করা হয় বিরোধীদল গুলির বিধায়ক দের মধ্যে। যে বিলের মর্মবস্তু এই যে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে লোকায়ুক্ত তার তদন্ত করতে পারবে না। এই ব্যবস্থাই পাকা করতে লোকায়ুক্ত সংশোধনী বিল আনতে চাইছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সংবাদ মাধ্যমে এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই , বৃহস্পতিবার হঠাৎ ই বিধানসভা সচিবালয়ের কর্মীরা বিরোধী দলের ঘরে এসে সেই বিলি হওয়া বিলের কপিগুলি তুলে নিয়ে যান বলে জানা যাচ্ছে। এই ঘটনা নিয়ে সব বিরোধী দল ই মুখ খুলেছেন। তবে তৃণমূলের পক্ষ থেকে এনিয়ে মুখ খোলা হয়নি।

এত দিন দল দুর্নীতি তে জরালেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সততার ভাবমূর্তিতে সেই অর্থে কালি পরেনি। তৃণমূল দল পুরটাই মমতা কেন্দ্রিক, এবং মমতার সততার ওপরই ভরসা করে দাঁড়িয়ে রয়েছে তাদের দল। তাই বিরোধীরা খুব ভালমতোই অনুধাবন করেছেন, যদি তার সততাতে দাগ পরে পরে ভেঙ্গে পরবে তার দল।  সবটাই সম্ভাবনা, আর এই সম্ভাবনাই কি ভাবাচ্ছে তৃণমূল কে?

এমন পরিস্থিতিতে কেন লোকায়ুক্ত সংশোধনী বিল এনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেকে এবং দলের নেতাদের যে কোন তদন্ত থেকে বাঁচাবার চেষ্টা করছেন? এতেই উঠছে জল্পনা, তাহলে কি দূরদর্শি এই রাজনীতিবিদ মনে করছেন লোকসভা ভোটের আগে সুদীপ বা মদনের মত তাকে ও ফাঁসানো হতে পারে? উঠছে প্রশ্ন।

 

আরও পড়ুন ঃ কয়েক কোটি টাকার খাদ্য কেলেঙ্কারিতে নাম জড়ালো রাজ্য সরকারের !