ম্যাক্সিম গোর্কির মা থেকে দেবাশিষের মা। মেডিকেলের লড়াইতে মিলেমিশে একাকার।

১০দিক২৪ ব্যুরোঃ কলেজের হোস্টেল গুলির খুবই করুন অবস্থা, ছাদ ভেঙে পরছে, ছাদ দিয়ে অনবরত জল পড়ছে। তাই হস্টেলের দাবিতে অনশনে নেমেছে ছাত্ররা। ২২৫ ঘণ্টা অতিক্রান্ত তবু নজর নেই সরকারের। খিদের জ্বালাও হার মানাতে পারেনি জেদ কে। আর এই লড়াইয়ে এবার ছাত্র দের পাশে দাঁড়ালেন ছাত্রের মা।

একটি ছেলে ৭ দিন কিছু খায়নি। তার কারণ ওর বন্ধুরা, সহপাঠীরা,ভাইদের পড়াশোনা করার জন্যে ন্যূনতম মাথার ছাদ টা দিতে ব্যর্থ কলেজ কর্তৃপক্ষ। অবশ্য কর্তৃপক্ষর আদৌ কোনো সদিচ্ছা আছে কিনা সেই সম্পর্কেও সন্দেহ আছে ছাত্রদের। কিন্তু ছেলেকে না খাইয়ে তো কোনোদিন খায়নি মা। তবে এখন সন্তানের এই কঠিন সময় ছেলে যখন চোয়াল শক্ত করে কিছু না খেয়ে লড়ে যাচ্ছে তখনও মা পাশেই দাঁড়ালেন ছেলের ।মা ও তিন দিন কিছু খাননি। তিনি হাই ব্লাড প্রেশারের রুগী তবুও মা দৃপ্ত কণ্ঠে বলছে "আমার সন্তান ন্যায়ের জন্য লড়ছে,অধিকারের জন্য লড়ছে আমি ওর পাশেই আছি আর শেষ পর্যন্ত থাকবো"। ছাত্রের নাম দেবাশিষ বর্মণ। আর বীর বীরাঙ্গনা মায়ের নাম লিলিতা রায় সরকার বর্মণ।

কথায় আছে মায়ের দুধের ঋণ শোধ করা যায় না। কিন্তু অনশনের মঞ্চে কিছু না খাওয়ার শক্তি যোগানো মায়ের ঋণ কি আদৌ শোধ করা যায়? এপ্রশ্ন নিয়ে চর্চার মাঝেই অনেকেই দেবাশিষের মা কেও তুলনা করেছেন বিখ্যাত সাহিত্যিক ম্যাক্সিম গোর্কির লেখা পাভেলের মা এর সাথে। পাভেলের লড়াই, তার মা কে বিপ্লবী মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ করেছিল। ঘর থেকে বেড়িয়ে ছেলের লড়াইতে মাঠে নেমেছিল পাভেলের মা। আর প্রায় ১০০ বছর পরে ম্যাক্সিম গোর্কির লেখারই যেন পুনরাবিত্তি ঘটল মেডিকেল কলেজে। যেখানে লড়াইয়ের রাজপথে ম্যাক্সিম গোর্কির মা থেকে দেবাশিষের মা মিলে মিশে একাকার।

 

আরও পড়ুনঃ মুখ মুখোশের আড়ালে, ঘটনার নেপথ্যে ২১ শে জুলাই। বিশেষ প্রতিবেদন।