এবার রেশন দোকান পাল্টে হবে মিনি শপিং মল, আশঙ্কার কালো মেঘ দেখছে গরীব মানুষ।

১০দিক২৪ ব্যুরোঃ এবার থেকে রেশন দোকানে গেলে আপনি পেয়ে যাবেন ছোট খাট শপিং মল, অন্তত আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এমন ই অভিজ্ঞতা হতে চলেছে আমাদের বাংলার মানুষের। জানা যাচ্ছে, আগামী আগস্ট মাসে উত্তর ২৪পরগনার ১০টি রেশন দোকানকে এই পরিসেবার আওতায় এনে পথ চলা শুরু করবে এই স্কিম, তার পর রাজ্যের প্রায় ২২হাজার রেশন দোকানে পাওয়া যাবে এই ‘বিগ বাজার’ কোম্পানির সামগ্রী।

ফিউচার গ্রুপের সঙ্গে এমন ই মউ সাক্ষ্যর করেছে রাজ্য। রাজ্য খাদ্য ও সরবরাহ বিভাগের প্রধান সচিব মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, "আমরা আগামী তিন মাস উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাতের ২ হাজার রেশন দোকানে এই প্রকল্প শুরু করব। এর পর সাফল্যের উপর নির্ভর করে, আমরা ধীরে ধীরে অন্য জেলায় ঢোকার চেষ্টা করব।" সূত্রে মারফৎ জানা যাচ্ছে বাজারের মূল্যের চেয়ে ১৫-৩৫ শতাংশ কম দামে এখানে সামগ্রী পাওয়া যাবে। এই পদক্ষেপের কারণ জনাতে চাইলে সচিব জানান, "আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য হচ্ছে মানুষেরা যাতে তাদের আশেপাশে ব্র্যান্ডেড পণ্যগুলি বাজারের তুলনায় কম দামে পেতে পারে । এছাড়া সাধারণ মানুষদের কাছে রেশন দোকান গুলোকে আকর্ষণীয় করে তুলতেও সুবিধা হবে এর ফলে।"

তবে, শুনতে ভালো লাগলেও অভিজ্ঞতা বলছে অন্য কথা। ২০১৫ সালে এই এক ই পদক্ষেপ নেয় রাজস্থানের বিজেপি সরকার, আর সেখানেও ফিউচার গ্রুপের সাথেই চুক্তি হয়েছিল, যা ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার যোজনা’ নামে মানুষের সামনে আনে রাজ্য সরকার। কিন্তু এই প্রকল্প নিয়ে রাজস্থানের রেশন ডিলার সংগঠনের নেতা ওমপ্রকাশ শর্মা পরে জানিয়েছিলেন ভিন্ন সুর। তিনি জানান, দাম প্রথমে কম থাকলেও কয়েক দিন পর থেকে উল্টে বাজার দরের থেকে ২০% বেশি দামে সামগ্রী বিক্রি করতে হচ্ছিল আমাদের। রেশন দোকানে মানুষ কম পয়সায় জিনিস কিনতে আসেন কিন্তু সেখানে এত দামি জিনিস থাকায় তা মানুষের কাছে মোটেও ভালো ছিল না।

বর্তমানে বাংলার খাদ্য মন্ত্রী থেকে শুরু করে মুখ্যমন্ত্রী এই প্রকল্প নিয়ে উদ্ভাসিত। রাজস্থানের অবস্থা দেখেও জেনে শুনে কেন এই প্রকল্পের দিকে পা বাড়াল রাজ্য সরকার তা নিয়ে সদুত্তর পাওয়া যায়নি।