একই মঞ্চে তৃণমূল, সিপিএম। অরূপের ইয়র্করে ছয় মারলেন শ্যামল।

১০দিক২৪ ব্যুরোঃ দুই মেরুর দুজন নেতা আমন্ত্রিত একই মঞ্চে। এক জন তৃণমূলের মন্ত্রী, আরেক জন রাজ্যের হেভিওয়েট সিপিমের নেতা। দুজনেই জানেন না, দুজনের আমন্ত্রণের খবর। এমন ই এক ঘটনার সাক্ষী থাকলো ব্যাঙ্ক অফিসারদের সংগঠন সমূহের যৌথ মঞ্চ।

জানা যাচ্ছে, ব্যাঙ্ক জাতীয়তাকরনের ৫০ বছরের পর ব্যাঙ্ককে ফের বেসরকারি হাতে তুলে দেবার বিরোধিতা করে একটি সভার আয়োজন করা হয়। বিজেপি বিরোধী মঞ্চ বলে সব দলের নেতাদের ই আমন্ত্রণ জানানো হয়। বামেদের শ্রমিক সংগঠন সবসময় অন্যতম বড় সংগঠন হিসেবে নিজেদের ঐতিহ্য বজায় রেখে এসেছে, তাই স্বাভাবিক ভাবেই এই মঞ্চে ও বামেদের অধিপত্য ছিল বেশি। সেই মত সভায় বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য সিপিএমের দাপুটে নেতা শ্যামল চক্রবর্তী। কিন্তু যেহেতু বিজেপি বিরোধী মঞ্চ তাই অবিজেপি দল হিসেবে তৃণমূল কেও আহ্বান জানানো হয়। সেখানে মমতা ব্যানার্জী ই প্রতিনিধি হিসেবে পাঠান রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস কে।

সভায় এসে দুজনেই দুজন কে দেখে অপ্রস্তুত হয়ে পরে, তবু সৌজন্যের খাতিরে কথা হয় দুজনের। এমন কি দুজন কে এক ই মঞ্চে পাশা পাশি বসায় সংগঠনের নেতারা। কিন্তু বাদ সাদে বক্তব্যের সময়। প্রথমে বক্তব্য রাখেন তৃণমূলের অরূপ বাবু, বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়ালেও হালকা ছলে বামেদের নামে ও অভিযোগ টানেন। তিনি বলেন, "কেন্দ্র বিরোধী আন্দোলনে গোটা দেশে এখন মমতা ব্যানার্জী প্রধান মুখ। এই যে এখানে সিপিএমের শ্যামলদা আছেন, উনার দলকে আমরা বারবার বলেছি বিজেপিকে শক্তিশালী না করে নিজেদের পার্টিকে বাঁচান। তাহলে এই মোদীকে সরানো আরও সহজ হবে।"

তবে একথায় চুপ না থেকে নিজের বক্তব্যের সময় হাসি মুখে অরূপের ইয়র্কর কে ছয় মেরেছেন বাম নেতা। তিনি বলেন, "এই ঐক্যবদ্ধ মঞ্চে আমি বিতর্ক করতে যাব না। তবে বিজেপির হাত কারা শক্ত করছে তা সবাই জানে। ত্রিপুরায় আমাদের হারাতে গোটা তৃণমূল টাই বিজেপিতে ভিড়ে গেল। ওখানে এখন ওদের বাতি দেওয়ার ও কেউ নেই।" তবে বিজেপির বিরুদ্ধে একই ভাবে সুর চড়িয়েছেন দুই নেতা। এভাবে পরস্পর বিরোধী দুই দলের নেতা এক সাথে একই মঞ্চে দেখে এই সভা আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে কর্মী দের কাছে।

 

পড়ুনঃ মানিক বদলে 'হিরা', ত্রিপুরায় বন্ধ হয়ে গেল স্থায়ী পেনশন। বিজেপির বিরুদ্ধে বাড়ছে ক্ষোভ।