আদিবাসী অঞ্চলে ভোট বাড়লেও, ক্রমশ উত্তরবঙ্গে মাটি হারাচ্ছে বিজেপি। জানুন কেন?

১০দিক২৪ ব্যুরোঃ ২০১১ সালের মে মাসে রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর তৃণমূল কংগ্রেস জঙ্গলমহলের মাওবাদী অধ্যুষিত অঞ্চলে বামফ্রন্ট কে মুছে দিয়ে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছে। কিন্তু এখন এই অঞ্চলে তৃণমূল কংগ্রেসের ভোট কেটে দ্বিতীয় স্থানে বিজেপি। পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং বাঁকুড়া জেলার জয়রাশি রাজ্যগুলির মধ্যে জয়লাভ করে মোট আসনের প্রায় ৪০% ভোট পেয়েছে বিজেপি।

ঝাড়গ্রামের ৮০৬ টি গ্রাম পঞ্চায়েত আসনে বিজেপি ৩২৯ পেয়েছে, তৃণমূল ৩৯৯ এবং বামেরা পেয়েছে ১৪ টি আসন ।পঞ্চায়েত সমিতির ১৮৭ টি আসনের মধ্যে তৃণমূল ১০৪, বিজেপি ৭৩ ও বামেরা পেয়েছে ২ টি আসন । জেলাপরিষদে ১৩ টি আসনের মধ্যে তৃণমূল ১৩ এবং বিজেপি পেয়েছে ৩ টি আসন।

আদিবাসী মানুষের বিপুল সমর্থন নিয়েই ক্ষমতায় এসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কিন্তু এখন সেই তৃণমূলের দিক থেকেই মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে আদিবাসীরা। যদি ও পার্থ বাবু মাঠে নেমে ইতি মাধ্যেই অনেক বিজেপি কর্মী কে তৃণমূলের ঝাণ্ডা ধরাতে সমর্থ হয়েছেন তবুও বিজেপি ভালো প্রভাব ফেলেছে এই অঞ্চলগুলিতে। এবার আদিবাসী অঞ্চলগুলোর নেতা কে হবে তাও ঠিক করে দেবেন মমতা বন্ধপাধ্যায়। তৃনমূলের মালদা জেলার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বাবলা সরকার বলেন, “যদি এই সভাধিপতি পদে একাধিক নাম আসে তবে সেইসবই দলনেত্রীর কাছে পাঠানো হবে। তিনি যা সিদ্ধান্ত নেবেন সেটাই চূড়ান্ত বলে গন্য হবে”।

ঠিক উল্টো সুর দেখা যাচ্ছে উত্তর বঙ্গে। আদিবাসী অঞ্চলে বিজেপি এগলেও উত্তর বঙ্গে ক্রমশ জমি হারাচ্ছে বিজেপি। গত ২০ শে জুলাই এ রাজ্যের আটটি জেলার নতুন সভাপতির নাম ঘোষনা করেছে বিজেপি। উত্তরবঙ্গের কোচবিহারেও সভাপতি বদল করে নিখিলরঞ্জন দের জায়গায় আনা হয় মালতী রাভাকে। যদিও তাতে ও দলের লাভ হয়েছে তা নয়।

মশাবাহিত রোগের প্রকোপ, শহরে জল প্রকল্প চালু না হওয়া, তুফানগঞ্জে নিম্নমানের রাস্তার – মত শাসকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ইস্যু হাতে থাকলে ও তাঁকে নিয়ে এগোতে পারছে না বিজেপি। আর এই বিজেপির জায়গায় সংগঠনের জোরে কিছুটা হলেও আবার নিজেদের হারানো জমি আবার ফিরে পাচ্ছে বামেরা। কোচবিহারে এখন ও বিজেপির জেলা কমিটি গঠন না হওয়ায় ক্রমশ দুর্বল হচ্ছে সংগঠন। কোচবিহার জেলা সভাপতি মালতী রাভা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "কবে এই জেলা কমিটি হবে তা বলতে পারব না। আশা করছি রাজ্য নেতৃত্ব জেলায় এলেই এই কর্মসূচী নেওয়া হবে।" তাই এতেই বিজেপি নিজের ভুলেই হারাতে চলেছে উত্তরবঙ্গ।

 

 

 

 

আমাদের খবর দেখতে যুক্ত থাকুন আমাদের ফেসবুক পেজে, ক্লিক করুন এখানে
আমাদের খবর Whatsapp এ পেতে, যুক্ত হোন আমাদের Whatsapp গ্রুপে, ক্লিক করুন এখানে