Homeরাজ্যপাল্টাচ্ছে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ। তৃণমূল তাড়াতে বিজেপি নয়, বামেতে বাড়ছে ভরসা।

পাল্টাচ্ছে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ। তৃণমূল তাড়াতে বিজেপি নয়, বামেতে বাড়ছে ভরসা।

১০দিক২৪ ব্যুরোঃ তৃণমূলের বিকল্প কে? এই নিয়েই রাজ্য রাজনীতিতে তৈরি হয়েছিল জল্পনা। কিন্তু কিছু দিন আগেই পরিস্থিতি যা ছিল, মাত্র কয়েক মাসেই পাল্টে গেল রাজনৈতিক সমীকরণ। মাত্র কয়েক মাস আগেই, “তৃণমূল কে সরাতে গেলে প্রথমে বিজেপি কে আনতে হবে” দাবানলের মত একথা বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মী দের মধ্যে ঘুরে ফিরছিল। বামেরা যে তৃণমূল কে আদেও হারাতে পারবে, তা নিয়ে প্রশ্ন চিহ্ন তৈরি হচ্ছিল অনেক বাম কর্মী দের মধ্যে ও। অনেকে বিকল্প ভেবে বিজেপি তে যোগ ও দিয়েছিলেন। কিন্তু মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে পাল্টে গেল রাজনৈতিক সমীকরণ, বর্তমানে তৃণমূল তাড়াতে বিজেপি নয়, বামেতে বাড়ছে ভরসা।

গত জুলাই মাসেই “তৃণমূলের বিকল্প বিজেপি” এই নিয়ে ব্যাখ্যা করেছিলেন সিপিএম নেতা সূর্যকান্ত মিশ্র। তিনি দাবি করেছিলেন দলের একাংশের মধ্যে বিজেপির প্রতি দুর্বল মনোভাব দেখা যাচ্ছে, এবং বিজেপির প্রতি দুর্বলতা কাজ করছে তৃণমূলের প্রতি বিতৃষ্ণা থেকেই। বিচক্ষণ এই বাম নেতা অনেক সভাতেই দাবি করেছেন দিদি এবং মোদীর দোস্তির কথা, কিন্তু প্রকাশ্যে অনেকেই এই সূক্ষ্ম বিভেদ বুঝতে পারছেন না বলেই মত জানিয়েছিলেন তিনি। তার মতে বিজেপি তৃণমূলের লোক দেখানো কুস্তি দেখে অনেকেই বিজেপিকে বিকল্প শক্তি হিসেবে ভাবছিল।




তবে, মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই বিজেপি নয় বামেতেই ভরসা রাখছে মানুষ। কিন্তু কেন বাড়ছে এই ভরসা? রাজনৈতিক বিশ্লেষক দের মতে, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ থেকে একের পর এক কৃষক আন্দোলন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছে বাম কৃষক সংগঠন। গত ৫ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির শোচনীয় হারের জন্য বামেদের আন্দোলন যে এক মাত্র প্রধান কারণ এই নিয়ে দ্বিমত নেই। বুথ ভিত্তিক সংগঠন না থাকায়, রাজস্থান ছাড়া সেভাবে বামেরা রাজনৈতিক ফসল ঘরে তুলতে না পারলেও সারা দেশ বাম আন্দোলনের স্রোতে আন্দোলিত হয়েছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।




এছাড়া রাজ্যের মাটিতে, বামেদের সিঙ্গুর থেকে রাজভবন অভিযান যথেষ্ট সারা ফেলেছে। আর এই অভিযানে কৃষক উপস্থিতিতে সারা ফেলে মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরে লালঝাণ্ডা তুলে নেন তৃণমূল নেতা ড. এক্রামূল হক সহ প্রায় ৫০০ তৃণমূল কর্মী। শুধু তৃণমূল নয়, বাম ছেড়ে বিজেপিতে যাওয়া কর্মীরা ফিরতে শুরু করেছে লাল ঝাণ্ডার তলায়। পুরুলিয়ার ঝালদা থানার অন্তর্গত মাঠারি খামারি গ্রাম-পঞ্চায়েতের ৫৩জন ভোটার যোগ দেন বাম সংগঠনে, যাদের বেশির ভাগ ই বিজেপি সমর্থক ছিলেন। সিঙ্গুরের মিলিলের প্রভাব বুঝতে পেরে, নজর ঘোরাতে অন্য তথ্য দাবি করেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। বিজেপির রাজ্যসভাপতি দিলীপ ঘোষ দাবী করেন ওই মিছিলে আসলে তৃণমূলের লোক ও ছিল। বিজেপিকে ভয় দেখাতে তৃণমূল লোক পাঠিয়ে ভিড় বাড়াতে চেয়েছিল বামেদের মিছিলে। তবে এই মন্তব্যের প্রভাব পড়েনি, উল্টে এই মিছিল নিয়ে যে যথেষ্ট চিন্তিত পদ্ম শিবির, দিলীপ ঘোষের এই হঠকারী বক্তব্য তা প্রমাণ করে দেয়।




এই মুহূর্তে তৃণমূল কে টেক্কা দিয়ে ব্রিগেডের সমাবেশের ডাক দিয়েছে বামেরা। ১৯ এ জানুয়ারি তৃণমূলের ব্রিগেড অনুষ্ঠিত হতে চলেছে, তাকে টেক্কা দিয়েই ৩ রা ফেব্রুয়ারি ব্রিগেডের আহবান রেখেছে বামেরা। কিন্তু রথ না পথ এই নিয়ে এখন ও নিজেদের পথ খুঁজে বের করতে ব্যর্থ রাজ্য বিজেপি নেতারা। কর্মীরা ও কার্যত হতাশ। আর এতেই মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে বিজেপি কে নিয়ে যে আসা তৈরি হয়েছিল রাজনৈতিক কর্মী দের মধ্যে তা সম্পূর্ণ ভাংছে। বিভিন্ন জায়গায়, বিজেপি কর্মীরা তৃণমূল অথবা বাম সংগঠনে ফিরে আসছে। আর এর থেকেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা দাবি করছেন, তৃণমূল তাড়াতে বিজেপি নয়, বামেতে বাড়ছে ভরসা।




FOLLOW US ON:
"শিল্প ক
Rate This Article:
NO COMMENTS

Sorry, the comment form is closed at this time.