একটি ব্যক্তিগত মতামত। লিখলেন প্রখ্যাত আঁতেল নিগান্ত নটপুত্র।

কিছু কথা শিরোনাম

১০দিক২৪, লিখেছেন, প্রখ্যাত আঁতেল নিগান্ত নটপুত্রঃ ১৯৮৮ দূরদর্শনের বিখ্যাত ধারাবাহিক মহাভারত। ভারতবর্ষে কতজন জানেন এই ধারাবাহিকের স্ক্রিনপ্লে লিখেছিলেন পন্ডিত নরেন্দ্র শর্মা আর উর্দু কবি রাহি মাসুম রাজা? আপনি জানেন কি এই সিরিয়ালের অর্জুনের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন ফিরোজ খান? আপনি নিশ্চই এটা জানেন এই ধারাবাহিকে কুন্তির চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন নাজনিন?
কজন জানেন “কৌন গলি গয়ো শ্যাম” উস্তাদ বড়ে গোলাম আলি খানের লেখা বন্দিশ?

যদি জানেন এতকিছু তাহলে দেশের সব মানুষকে এক করে দেখতে পারেন না কেন?

আজকাল চুপচুপে ধর্মে মেশানো দেশভক্তির ফ্যাশন হয়েছে। তা আপনি কতটা দেশভক্ত?

আপনি কি বিপ্লবী মহিতোষ নন্দীর মত আহত হয়েও গোয়ার মুক্তির জন্য সংগ্রাম করেছেন? আপনি কি বিপ্লবী গণেশ ঘোষের মত আত্মগোপনে থেকেছেন? আপনি কি কল্পনা দত্তের মত অস্ত্রাগার লুন্ঠনে নেতৃত্ব দিয়ে ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে হাতে রাইফেল নিয়ে সংগ্রাম করেছেন? আপনি কি কারগিলে বুকে শিষের টুকরো খেয়েও সিয়াচেন দখলে রেখেছেন?




আপনি এসব কিচ্ছু করেননি তাইতো? আপনি বাড়িতে বসে রিপাবলিক ডে তে চিকেন চিল্লি নিয়ে দূরদর্শনের সামনে বসে দেশপ্রেম জাগিয়েছেন। আপনি মাথায় তিলক এঁকে টিভি চ্যানেল দেখে মানুষকে দাঁড়ি টিকি পোষাকে খাদ্যে মেপেছেন, মেরেছেন। আপনি নিজের বিচারবোধ বন্ধক রেখেছেন। এরপরেও দেশ মহান হবে আপনাদের নিয়ে! আপনি দেশের জন্য একবিন্দু রক্ত দেননি। গরিব খেতে না পাওয়া শিশুটা যে স্বাধীনতার সকালে মেকডনাল্ডের পাশে তাকিয়ে আপনার ঠোঁটে লেগে থাকা খাবারের উচ্ছিষ্ট দেখে ক্ষিদেতে জ্বলেছে তাকে একখন্ড রুটি দেননি। লাখো অন্নদাতা কৃষক যাদের ছেলে মেয়েদের রক্তে বর্ডার নো ম্যানস ল্যান্ড ভাসে বলে আপনি শান্তিতে ঘুমোন সেই কৃষকদের আত্মহত্যায় টনক নড়েনি আপনার। আপনি কোনোদিন প্রতিবাদ করেননি যখন আপনার সৈনিক ভায়েরা অবসরের পর তাদের দাবী নিয়ে লড়াই করছিলো সমকাজে সমবেতনের জন্য। অথচ ধর্ম আর জাতীয়তাবাদের মিশেলে আজ আপনি মানুষকে মাপছেন। আপনার রাজনৈতিক গুরুরা যখন মুচলেকা দিতে ব্যাস্ত তখন দেশটার জন্য যারা রক্ত দিয়েছিলো তাদের সম্মান না করে ব্রিটিশের রানী ভিক্টোরিয়ার ভারতের রানী হবার দিন স্মরন করবেন। আপনি তাও দেশভক্ত আর নিজের জীবনের পুরোটা দেশের জন্য খেলেও শচীন তেন্ডুলকর দেশদ্রোহী। দোষ টা আপনার নয় সেদিন সন্ধ্যেবেলা পাঁচমাথার মোড়ে দাঁড়ানো মানুষটার দিকে চোখ তুলে তাকাতে পারলাম না। যেন হেঁসে তিনি বলছেন এই দিন দেখার হলে হয়ত সেদিন বাড়ি থেকে দেশান্তরী হতাম না।

দুটো শব্দ জুড়ে দিস আমি রিলিজিয়ন কলামে কিন্তু বোল্ড এবং ক্যাপিটালে ইন্ডিয়ান লিখি সগর্বে জয় হিন্দ এবং বন্দে মাতরম বলি আপনাদের সৎ সাহস আছে তো এদুটো শব্দ বিনা সংকোচে বলার? যতদূর শুনেছি রিলিজিয়ন কলামে আপনারা ধর্ম লেখেন।

মতামত লেখকের ব্যক্তিগত।