মা দুর্গার দশটি হাত কেন?

প্রতি বছর মা আসেন শরৎ কালে। সাথে থাকে কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মী, সরস্বতী। আমারা দেখেছি মা দুর্গার দশটি হাত রয়েছে। পুরাণ অনুসারে মা দুর্গার বা আদিশক্তির সৃষ্টি হয়েছে দেবগণকে অসুরদের বিপদ থেকে উদ্ধার করার জন্য। দেবগণের সমবেত শক্তির আধার হলেন দেবী দুর্গা। দুর্গা কে চণ্ডী নামেও অবিহিত করা হয়।

এই শ্রী শ্রী চণ্ডীর কথা পাওয়া যায় মার্কণ্ডেয় পুরানের অর্ন্তগত। এতে তিনটি চরিত্র আছে।প্রথমটিতে শ্রী শ্রী চণ্ডী মধু এবং কৈটভ নামের দুই অসুর কে বধ করেন। দ্বিতীয়টিতে মহিষাসুর কে বধ করেন। তৃতীয়টিতে শুম্ব ও নিশুম্ভ নামের দুই অপরাজেয় অসুরকে বধ করেন।

ব্রহ্মার বরে শক্তিশালী মহিষাসুর স্বর্গ, মর্ত ও পাতাল জয় করে তিন লোকে অসুরের রাজত্ব স্থাপন করলে দেবগণ ও পৃথিবীর মানুষেরা দুর্দশায় পতিত হন। অসুরেরা এ সময় মানুষের সব পূজা অর্চনা বন্ধ করে দেয়। আর স্বর্গের দেবতারা অসুরদের কাছে পরাজিত হয়ে স্বর্গ থেকে বিতাড়িত হন। এসময় দেবতারা বিষ্ণু, মহাদেব ও ব্রহ্মার শরণাপন্ন হন। ত্রিদেব ও অন্যসকল দেবতাদের তেজ থেকে যে দেবির সৃষ্টি হয় তিনিই হলেন দেবি দুর্গা। দু-হাতে সকল অস্ত্র ধরা সম্ভব নয় বলে দেবিকে দশ হাত ধারণ করতে হয়েছে। মহাদেব দিলেন শূল, বিষ্ণু দিলেন চক্র, বরুণ দিলেন শঙ্খ, অগ্নি দিলেন শক্তি, বায়ু দিলেন ধনু ও বাণপূর্ণ তূণীর, ইন্দ্র দিলেন বজ্র, ঐরাবত দিলেন ঘণ্টা, যম দিলেন কালদণ্ড, বরুণ দিলেন পাশ, ব্রহ্মা দিলেন অক্ষমালা ও কমণ্ডলু, সূর্য দিলেন রশ্মি, কালখক্ষ ও নির্মল চর্ম, ক্ষিরোদ সাগর দিলেন অক্ষয়বস্ত্রসহ বিভিন্ন  বিভিন্ন অলঙ্কার ও আভরণ, বিশ্বকর্মা দিলেন পরশুসহ নানাবিধ অস্ত্র, অভেদ্য কবচমালা, হিমালয় দিলেন সিংহ, কুবের দিলেন অমৃতের পান পাত্র, শেষ নাগ দিলেন নাগহার ও অন্যান্য দেবতা তাদের সাধ্যমতো বিষয় উপহার দিলেন।

দুর্গার দশ হাত দশ দিক রক্ষা করারও প্রতীক।দশ দিক হলো পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর, দক্ষিণ, ঈশাণ, বায়ু, অগ্নি, ণৈরত, ঊর্ধ্ব এবং অধঃ। এই দশ প্রহরণ নিয়ে দেবি আক্রমণ করছে মহিষাসুরকে। অনেকে বলেন মানবজাতির সকল অশুভ বিনাশ করার জন্যই তিনি দশ প্রহরণ ধারিনী।