Ebook বিক্রি করে ত্রাণ তুলে নজির স্থাপন বাঙালি লেখকের

প্রায় সাত লক্ষ টাকার যোগান একাই দিয়েছেন জনপ্রিয় লেখক অভীক দত্ত।

১০ দিক ২৪: বর্তমানে সারা বিশ্বেরই এখন বেশ জ্বর। আর সেই জ্বরের কারণ করোণা ভাইরাস। যার প্রকোপ থেকে বাদ যায়নি বাংলাও। তার ওপর খাঁড়ার ঘায়ের মতনই প্রভাব ফেলেছে ঘূর্ণিঝড় আমফান। যার ফলে দুটি ২৪পরগনা সহ সুন্দরবনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যার ধাক্কা এখনো সামলে উঠতে পারেনি অধিকাংশ অঞ্চলই। নানান স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন পাশে দাঁড়িয়েছেন সেইসব মানুষদের। এছাড়াও করোনার প্রকোপে কাজ হারানো মানুষদের জন্য ছাত্রযুবদের উদ্যোগে কমিউনিটি কিচেন তো চলছিলোই। আর এই বিপুল কর্মদ্যোগে অর্থের প্রয়োজনীয়তা বলাই বাহুল্য। সেখানেই মানুষের প্রয়োজনে প্রায় সাত লক্ষ টাকার যোগান একাই দিয়েছেন জনপ্রিয় লেখক অভীক দত্ত।

    এই বিপুল অংকের টাকার পুরোটাই নিজের লেখার মাধ্যমে তুলেছেন তিনি। বর্তমান পরিস্থিতিতে বই বিক্রি সম্ভব নয়। তাই এক অভিনব পন্থা নেন লেখক অভীক দত্ত। তাঁর লেখা বড়গল্প,ছোটগল্প বা উপন্যাসের PDF করে ফেসবুকের মাধ্যমেই বিক্রি শুরু করেন। প্রাপ্ত টাকার সমস্তটাই চলে যায় নানান স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বা ত্রাণ তহবিলে। প্রথমে করোনার ত্রাণে সাহায্যের জন্য লেখেন 'যখন এসেছিলে'। এরপর 'নীল কাগজের ফুল','পরকীয়ার গল্প',কলেজ পড়ুয়াদের জন্য ২০টাকার গল্প বা ছোটদের জন্য 'হুকু পেত্নীর গল্প' তালিকাটা বেশ লম্বা। তারসাথে পুরোনো লেখা গুলি যেমন 'ব্লু ফ্লাওয়ার' বা 'অসময়ের বৃত্তান্ত'র মতো জনপ্রিয় লেখা গুলিও PDF করে বিক্রি করেন তিনি। এই উদ্যোগে এখনো অব্দি সবথেকে বেশি বিক্রি হয়েছে 'নীল কাগজের ফুল'। হাজার কপি।

        ভারত সেবাশ্রম,ইচ্ছেডানা,লাইটহাউস সহ নানান স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, সুন্দরবনে কান্তি গাঙ্গুলির নিজস্ব তহবিল সহ আমফান বিধ্বস্ত কলেজস্ট্রিটের সাহায্যেও টাকা পাঠিয়েছেন তিনি। মোট অঙ্কটা প্রায় সাত লক্ষ। তবে এখানেই শেষ নয়। টার্গেট ১০লক্ষের। লেখক আশাবাদী লক্ষ্য পূরণ হবেই। এই কাজের প্রেরণা কীর উত্তরে অভীক দত্ত জানালেন তিনি বামপন্থী পরিবারের মানুষ। নিজেও কমিউনিস্ট। তাই দুর্গত মানুষকে সাহায্য করাটা তাঁর স্বাভাবিক চেতনার মধ্যেই পরে। যা হয়তো এই কঠিন সময়েও জবাব দিয়ে যায় অনেক কিছুরই। আমরা আশাবাদী এভাবেই কলম চলুক লেখক অভীক দত্তর। ও উপকৃত হন অনেক অনেক দুর্গত মানুষ।