'প্রতিবন্ধী' নয়, লড়াই এর অপর নাম সাঁতারু অনামিকা।

প্রতীবন্ধকতার শিকার হয়ে জীবনের সঙ্গে লড়াই করতে করতে, কখন যেন বেঁচে থাকার একটি কারণ হয়ে ওঠে সাঁতার। আর সেখানেই মাথা উঁচু করে জিত ছিনিয়ে নেয় অনামিকারা। দুর্গাপুরের অনামিকা একটি নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে। তার বাবা মা সর্বস্ব দিয়ে মেয়ে কে জার্মান পাঠিয়েছে প্যারা এশিয়ান গেমস এর কোয়ালিফাই রাউন্ডে। অনামিকার বাবা জানিয়েছেন "অনেকের কাছে সাহায্যের জন্য বললেও কেউ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন নি। মেয়ে কে জার্মান পাঠিয়ে আমি আজ নিঃস্ব। শুধু বসত ভিটে টুকু ছাড়া আমার আর কিছু নেই।"

দুর্গাপুরের স্টিল টাউনশীপের নবম শ্রেণীর ছাত্রী অনামিকা জন্ম থেকে হেরিডেটোরি মোটর সেন্সরে আক্রান্ত। ফলতঃ ছোটো বেলা থেকেই তার হুইল চেয়ারে বসেই দিন কাটে। সুস্থতার জন্য ছোটবেলায় ডাক্তার পরামর্শ দেন সাঁতার শেখার,তারপর থেকেই জীবন যুদ্ধের সাথে জলে সাঁতরাতে সাঁতরাতে অনামিকা নিজেও বুঝতে পারেনি সাঁতারটা কখন তার জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে।

অনামিকার দুটি পা ই অসার। তবে ডাঙায় অনামিকা কে দেখে স্বাভাবিক মনে না হলেও জলে নামলেই অনামিকা অত্যন্ত সাবলীল ব্যাক স্ট্রোক থেকে শুরু করে সমস্ত রকম স্ট্রোকেই। বাবা কিংশুক গড়াই পেশায় গিটার বাদক। এবং মা দোলা গড়াই একটি কেকের দোকানে কাজ করেন। অত্যন্ত সাধারণ পরিবারের এই মেয়ে এশিয়ান গেমসে কোয়ালিফাই করা নিয়ে প্রবল আত্মবিশ্বাসী। শুধু তাই নয় অনামিকা বলেছে কোয়ালিফাই তো সে করবেই। বরং এশিয়ান গেমস থেকে দেশের জন্য পদক আনাটাই তার মূল লক্ষ্য।

অনামিকার পরিবার জানায় আর্থিক সমস্যার কারণে পরিবার থেকে কেউই তার সঙ্গে যেতে পারছেন না। তাকে হুইল চেয়ারে করে নিয়ে যাওয়া এবং দেখভাল করা পুরোটাই করবেন তার কোচ এবং সতীর্থ রা। আপাতত দুর্গাপুরের ওই ছোট্ট বাড়িটা জুড়ে একরাশ স্বপ্ন। তাদের মেয়ে সোনার মেয়ে হয়ে ঘরে ফিরবে। সোনার মেয়ের প্রতীক্ষায় রইলাম আমরাও। এবার না হয় গলা মিলিয়ে বলেই দেখি 'ফাইট অনামিকা ফাইট'।