লড়াই তে ফিরছে আবার চেনা ব্রাজিল।

ইতিহাস লেখা শুরু করলো ব্রাজিল। এর আগে গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নেমে ১-১ গোলে ড্র করেছিল ব্রাজিল। অন্যদিকে, সার্বিয়ার বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে হেরে পয়েন্ট খুঁইয়েছিল কোস্টারিকা। সেইন্ট পিটার্সবুর্গে ম্যাচটি শুরু হয় ভারতের সময় সন্ধ্যা ৬:৩০ এ। রাশিয়ায় নিজেদের প্রথম জয়ের নামে খোঁজে ব্রাজিল-কোস্টারিকা।

ম্যাচের তৃতীয় মিনিটে আক্রমণে যায় ব্রাজিল। বার্সেলোনার তারকা কুতিনহোর দারুণ একটি শট গোলবারের উপর দিয়ে বাইরে চলে যায়। দশম মিনিটে কোস্টারিকার ডি-বক্সের বাইরে থেকে ফ্রি-কিকের সুযোগ নষ্ট করে ব্রাজিল। ১৩ মিনিটের মাথায় সেলসো বোরগেসের বাঁকানো শট ব্রাজিলের গোলবারের বাইরে দিয়ে চলে গেলে, হতাশা সঙ্গী হয় কোস্টারিকার। ২৬ মিনিটের মাথায় কোস্টারিকার জালে বল ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন জেসুস। তবে, অফসাইটের ফাঁদে পড়ায় গোলটি বাতিল হয়। হতাস হতে হয় ব্রাজিল কে।

তবে লড়াইতে থাকে ব্রাজিল। ২৮ মিনিটে নেইমারের গতিতে পরাস্থ হয় কোস্টারিকার ডিফেন্স। তবে, প্রস্তুত ছিলেন রিয়াল মাদ্রিদের গোলরক্ষক কেইলর নাভাস। তাকে ফাঁকি দিতে পারেননি পিএসজির তারকা নেইমার। ৩২ মিনিটে নেইমারের তুলে দেওয়া বলে মাথা লাগাতে পারেননি জেসুস। তার আগেই ব্রায়ান ওভিদো বল ক্লিয়ার করেন। ৩৯ মিনিটে কোস্টারিকার একটি প্রচষ্টো ব্যর্থ হয় ফিনিশিংয়ের অভাবে।

৪২ মিনিটের মাথায় মর্সোলোর জোরালো শট গ্লাভসবন্দি করতে সমস্যা হয়নি নাভাসের। প্রথমার্ধের বাকি সময়ে আর কোনো গোল হয়নি। বিরতির পর শুরুতেই চেলসির তারকা উইলিয়ানের বদলি হিসেবে ব্রাজিল কোচ তিতে মাঠে নামান জুভেন্টাসের উইঙ্গার দগলাস কস্তাকে।

 


বিরতির পর কোস্টারিকার রক্ষণকে তছনছ করে দেয় ব্রাজিলের আক্রমণভাগ। নেইমারের সঙ্গে একাধিক আক্রমণ গড়েন পাওলিনহো। বার বারই তাদের হতাশ হতে হয় নাভাসের দক্ষতায়। ৫০ মিনিটে কুতিনহোর জোরালো শট নাভাসকে ফাঁকি দিলেও বল ক্লিয়ার করেন জনি অ্যাকুস্টা। ৫ মিনিট পর পাল্টা আক্রমণ হানে কোস্টারিকা। মার্কো উইরেনা আর ক্রিস্টিয়ান বোলানোসের প্রচেষ্টা রুখে দেয় ব্রাজিল ডিফেন্ডাররা।

৫৭ মিনিটে নেইমারের শট গোলবারের উপর দিয়ে বেরিয়ে যায়। পরের মিনিটে বার্সার তারকা কুতিনহোর ডি-বক্স থেকে নেওয়া শট নাভাস রুখে দেন। ৬৬ মিনিটে ব্রাজিলের তারকা পাওলিনহোর আরেকটি ব্যর্থ চেষ্টায় হতাশা সঙ্গী হয় পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের। দুই মিনিট পরই পাওলিনহোকে তুলে নিয়ে তিতে নামান ফিরমিনোকে। ৭০ মিনিটে ক্যাসেমিরোর দুর্বল হেড রুখে দেন নাভাস। ৭৩ মিনিটে কোস্টারিকার ডিফেন্ডারদের ভুল পাসে বল পান নেইমার। তবে, ডি-বক্সের সামান্য বাইরে থেকে ডানপায়ের বাঁকানো জোরালো শট নিলেও তা গোলবারের পাশ দিয়ে বাইরে চলে যায়।

ম্যাচের ৭৯ মিনিটে কোস্টারিকার বক্সে পড়ে যান নেইমার। রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান, কোস্টারিকার খেলোয়াড়রা আবেদন করলে ভিডিও রেফারির সহায়তা নেন ফিল্ড রেফারি। তাতে পেনাল্টির সুযোগ নষ্ট হয় ব্রাজিলের। হলুদ কার্ড দেখেন নেইমার। এরপর হলুদ কার্ড পান কুতিনহো। ৮৫ মিনিটে কুতিনহোর দূরপাল্লার শট নিজের নিয়ন্ত্রণে নিতে সমস্যা হয়নি নাভাসের। ৮৭ মিনিটেও নাভাস ঝলক, ক্যাসেমিরোর শট রুখে দেন তিনি।

ম্যাচের যোগ করা অতিরিক্ত সময়ে ব্রাজিলকে গোল পাইয়ে দেন কুতিনহো (১-০)। জেসুসের অ্যাসিস্ট থেকে গোলটি করেন বার্সা তারকা। এর পর গোল করেন নেইমার (৯৭ মিনিটে)। কস্তার অ্যাসিস্ট থেকে গোলটি করেন নেইমার। ম্যাচের বাকি সময় আর কোনো গোল না হলে প্রথম জয়ের দেখা পায় ব্রাজিল। নিজেদের গ্রুপে ব্রাজিল শেষ ম্যাচে খেলবে সার্বিয়ার বিপক্ষে।