প্রতারকের ভূমিকায় আলিয়া বিশ্ব বিদ্যালয়। বি টেক করে সরকারি চাকরিতে ব্রাত্যপড়ুয়ারা।

১০দিক২৪ ব্যুরোঃ সরকারি কলেজে পরে বি টেক ডিগ্রি পেয়েও তা কার্যত অর্থহীন হয়ে থাকলো। এমন ই ঘটনার সাক্ষী থাকলো আলিয়া বিশ্ব বিদ্যালয়ের ছাত্র দের।

ঘটনার সূত্রপাত, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার একটি পরীক্ষা থেকে। জানা যাচ্ছে, আলিয়া বিশ্ব বিদ্যালয়ের ইলেক্ট্রিক্যাল শাখায় বি টেক পাস করা কিছু ছাত্র, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার পদের বিজ্ঞপ্তি দেখে তাতে পরীক্ষায় বসেন। কিন্তু ফল প্রকাশের পর, শুধু মাত্র আলিয়া বিশ্ব বিদ্যালয়ের আবেদনকারী দের দরখাস্ত বাতিল করা হয়, অন্য বি টেক ছাত্র দের কাজে যোগ দেবার জন্য চিঠি পাঠানো হয়। যদিও, যাদের কাজে যোগ দেবার জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে, তাদের অনেকের পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বর আলিয়া বিশ্ব বিদ্যালয়ের ছাত্র দের থেকে অনেকটাই কম। কয়েক জন ছাত্র RTI (তথ্যের অধিকার আইনে) এর মাধ্যমে এই কথা জানতে পারেন।




কেন চাকরিতে নেওয়া হল না আলিয়া বিশ্ব বিদ্যালয়ের ছাত্র দের? এই প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার পক্ষে জানানো হচ্ছে, আলিয়া বিশ্ব বিদ্যালয়ের অল ইন্ডিয়া কাউন্সিল অব টেকনিক্যাল এডুকেশনের(AICTE) কোন অনুমোদন নেই, তাই আলিয়া বিশ্ব বিদ্যালয়ের ছাত্ররা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও তাদের চাকরি দেওয়া হয়নি। যদিও ছাত্র দের দাবি, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার পদের বিজ্ঞপ্তি তে কোন AICTE এর কথা উল্লেখ ছিল না। যদিও এই বিষয়ে প্রশ্ন তুললেই এক্ষেত্রে পাল্টা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার পক্ষে বিজ্ঞপ্তি দেখিয়ে জানানো হচ্ছে, বিজ্ঞপ্তিতে পরিষ্কার লেখা রয়েছে, "নিয়োগের ক্ষেত্রে সংস্থার সিদ্ধান্তই শেষ কথা।"

এখন ছাত্র দের প্রশ্ন, "সত্যি ই যদি আলিয়া বিশ্ব বিদ্যালয় এ AICTE অনুমোদন এর দরকার ছিল, তাহলে সেই অনুমোদন না নিয়ে কেন একটা রাজ্য সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এতগুলো টেকনিক্যাল কোর্স চালু করে ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল অব্ধি বি টেক, ২০১৪ থেকে ২০১৯ অব্ধি এম টেক ও এম সি এ পাশ আউট প্রায় ১৫০০ ছাত্র ছাত্রীর ভবিষ্যৎ নষ্ট করলো ? যে ছাত্র গুলো একটা রাজ্য সরকারের বিশ্ব বিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি নিয়ে, একটা রাজ্য সরকারের ই চাকরির পরীক্ষায় যোগ্য নাম্বার তুলেও চাকরি পাচ্ছেনা, তাদের দায়িত্ব কে নেবে? ভুল টা যদি WBSEDCL ই করে থাকে, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও দ্বায়প্রাপ্ত দপ্তর এতগুলো ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ সুরক্ষার্থে কেন ওই সংস্থার বিরুদ্ধে আইনি পথে যাচ্ছেনা ? একটা সরকারি সংস্থার রিক্রুটমেন্ট পলিসি অনুযায়ী যদি এতগুলো আলিয়ার ছাত্র কে রিজেক্ট করা হয়, তাহলে বাকি কোম্পানি গুলো আলিয়ার ছাত্র গুলির সঙ্গে কেমন আচরণ করবে?"




ছাত্র দের দাবি, ইউ জি সি কে লেখা চিঠি হোক বা কর্তৃপক্ষ প্রকাশিত বই, নিদেন পক্ষে দুর্নীতির অভিযোগে গঠিত ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির জবাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট এ প্রকাশিত তথ্য , সব জায়গাতেই উল্লেখ আছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বি টেক , এম টেক কোর্সগুলো AICTE অনুমোদিত । আর সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকারী প্রতারণার প্রতিবাদ করায় বহিরাগত নেত্রীর অবৈধ হস্তক্ষেপ এ প্রতারণা আড়াল করতে ছয় ছাত্র সাসপেন্ড করা হয়। প্রশ্নের মুখে হাজারো ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ। আদেও কি ছাত্ররা কোন চাকরি পাবে? অজানাই থেকে যাচ্ছে উত্তর। প্রতারণার শিকার হয়ে চাকরীর সুযোগ থেকে বঞ্চিত আলিয়ার ছাত্রছাত্রীদের দিন কাটছে হাইকোর্টের সুবিচারের আশায় ।