'মতুয়া' তুমি কার? নরেন্দ্র মোদীর সভা নিয়ে তৃণমূল বিজেপিতে শুরু হল ভাগের লড়াই।

১০দিক২৪ ব্যুরোঃ পরের পর ধাক্কা লেগেই যাচ্ছিল বাংলার গেরুয়া শিবিরে। একবার রথযাত্রা বন্ধ হওয়া তো অন্যবার উপযুক্ত জমায়েত না হবার আশঙ্কায় ব্রিগেড স্থগিত রাখা। এবার নিজেদের সভ্মার রক্ষার্থে ২রা ফেব্রুয়ারী প্রধাণমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কে দিয়ে দুটি জনসভা করানোর উদ্যোগ গ্রহণ করলো বিজেপি। একটি হবে ঠাকুরনগরে ও অন্যটি আসানসোলে।

ঠাকুরনগরের সভাটি দিয়ে এক ঢিলে দুই পাখি মারতে চাইছে বঙ্গ বিজেপি। ঠাকুরনগর ভারতের মতুয়া সম্প্রদায়ের কেন্দ্রীয় আশ্রম ও প্রধাণ তীর্থক্ষেত্র। এখানেই থাকেন মতুয়া সম্প্রদায়ের বড়মা বীণাপানি দেবী। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রায়ই এখানে আসেন বড়মার আশীর্বাদ নিতে। মতুয়া সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশের ভোট যায় তৃণমূলের ভোট ব্যাঙ্কে। এবার তাতেই থাবা বসাতে চাইছে বিজেপি। কিন্তু জটিলতা দেখা গেছে ২রা ফেব্রুয়ারীর সভা নিয়ে। কারণ ওই দিন আবার মতুয়াদের একটি গোষ্ঠী আয়োজন করেছে কীর্তন অনুষ্ঠানের।


দুর্গাপুরের সভা নিয়েও সমস্যা হতে পারে। তাই ইতিমধ্যেই সেখানকার নেতৃত্ব সভাস্থল পরিবর্তন করে রাজীব গান্ধী মেলা ময়দান থেকে দুর্গাপুর নেহরু স্টেডিয়ামে করে দিয়েছে।



তবে জটিলতা চলছে ঠাকুরনগর নিয়ে। মতুয়াদের বিদ্রোহী অংশের গড়া সারা ভারত মতুয়া মহাসংঘের সভাপতি শান্তনু ঠাকুরই আয়োজন করেছেন মোদীকে নিয়ে এই সমাবেশের। তিনি বলেছেন, মোদীজি ঠাকুরনগরে এসে গুরুমাতা বীণাপাণি দেবীর আশীর্বাদ নেবেন। কিন্তু এরপরেই উত্তর ২৪ পরগনার তৃণমূলের জেলা সভাপতি ও রাজ্যের মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন ‘প্রণাম গ্রহণ দূরের কথা, বড় মা দেখাই করবেন না প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে।’ এর জবাবে শান্তনু ঠাকুর বলেন ‘ঠাকুরনগরের মেলার মাঠ কি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের? ঠাকুরবাড়িও কি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের পৈতৃক সম্পত্তি? উনি এখানে বলার কে?মোদিজির সভা নিয়ে কোনো সমস্যা নেই।’

এখন দেখা যাক তৃণমূল বিজেপির এই দ্বৈরথ মতুয়া সম্প্রদায়কে কতটা ভাগ করতে পারে। আর নির্বাচনের কতটা লাভ তুলতে পারে কোন পক্ষ।