কর্মী দের মনে হিল্লোল জাগিয়ে, লাল ঝান্ডা হাতে নিয়েই শপথ নেবার বার্তাবুদ্ধদেবের।

১০দিক২৪ ব্যুরোঃ আর মাত্র এক দিন, তার পরেই বামেদের ব্রিগেড সমাবেশ। যা নিয়ে সারা রাজ্য জুড়ে জোর কদমে প্রচার চলছে। এই ব্রিগেড কতটা সফল হবে তা ৩ তারিখ এই বলা যাবে। এত দিন বামেদের ব্রিগেডে সেনাপতিত্ব করেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। কিন্তু এবার তার শারীরিক অবস্থা খারাপ থাকায় এবারের ব্রিগেডে তাঁকে দেখতে পাওয়া যাবে কিনা তা নিয়ে শুরু হয়েছে সংশয়।

নেতা থেকে কর্মী সকলেই এক বার ব্রিগেডে দেখতে চান সেনাপতি কে। শারীরিক অবস্থা খারাপ থাকলে ও কর্মী দের নিরাশ করলেন না বুদ্ধ বাবু। ব্রিগেডের সমর্থনে সিপিআই(এম) এর মুখপত্র কেই বেঁছে নিলেন প্রচারের হাতিয়ের হিসেবে। কর্মী দের কাছে ব্রিগেডের আহ্বান জানিয়ে দিলেন বার্তা। কর্মী দের মনে হিল্লোল জাগিয়ে, লাল ঝান্ডা হাতে নিয়েই শপথের বার্তা দিলেন বুদ্ধ বাবু। আজ গণশক্তি পত্রিকায় "অবস্থা বদলের শক্তি যোগাবে এই ব্রিগেড" নাম প্রতিবেদনে বুদ্ধ বাবু এই আহ্বান জানিয়েছেন। দেখে নিন সেই বার্তা, সৌজন্যে গণশক্তি পত্রিকা


 

 

"আগামী পরশু ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ডাক এসেছে বামপন্থীদের ব্রিগেডের সমাবেশের। সেই ডাক ঘরে ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে বাম-কর্মীদের প্রাণপণ চেষ্টায় রাজ্যের গ্রাম শহরের সর্বত্র। জলপাইগুড়ির চা বাগান থেকে লালগড়ের আদিবাসী অঞ্চল, রানিগঞ্জের শিল্পাঞ্চল থেকে সুন্দরবনের বনবাদাড়ে, প্রচার চলছে ঘরে ঘরে এই সমাবেশের জন্য।

ব্রিগেডের জমায়েতে আসবেন গ্রামের কৃষক খেতমজুররা। তাঁরা মার খাচ্ছেন। কিন্তু মাঠে বসে আর হা-হুতাশ নয়, এবার প্রতিবাদের ময়দানে। ধান থেকে পাট, সবজি থেকে আলু, কোন কিছুরই ন্যায্য দাম মেলেনি। কৃষিপণ্যের বাজারজাতকরণের কাঠামো ভেঙে পড়েছে। ধান লুটে নিচ্ছে নতুন ফড়েরা। মাঠে কাজ নেই, পঞ্চায়েতে টাকা নেই। যা ছিল চুরি হয়ে গেছে অপরাধীদের পকেটে। তাই প্রতিবাদ। এই সমস্ত প্রতিবাদী বিক্ষুব্ধ কৃষকদের মিছিল পৌঁছাবে ব্রিগেডে।



রাজ্যের শ্রমিকদের অবস্থা সংকটময়। চা বাগানে ন্যূনতম মজুরির সমাধান হয়নি। চটকলগুলিতে অনিয়মিত উৎপাদন। ফল ছাঁটাঁই। কেন্দ্রের অর্থনীতিতে ছোট শিল্প ব্যবসা তলিয়ে যাচ্ছে।

ঘরে ঘরে বেকার ছেলেমেয়েরা, শিক্ষিত-অল্পশিক্ষিত, যে কোনও একটা কাজ চায়। নয়ত তারা রাজ্যই ছাড়তে প্রস্তুত। অন্যদিকে অপরাধ জগতের বিস্তার ঘটছে সর্বত্র। চিট ফান্ডের কারবারিরা, ফসলের নব্যফড়েরা, পঞ্চায়েতের লুটেরারা জনজীবনে দাপট দেখাচ্ছে। ভয়ে সন্ত্রস্ত করতে চাইছে সবার মুখ। লোভ দেখানো বা ভয়ভীতি হামলাকে এরাজ্য কোনো অবস্থাতেই মুখ বুজে মেনে নেয়নি, নেবে না। প্রতিবাদ হচ্ছে। আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি সমবেত প্রতিবাদ ধ্বনিত হবে। তৃণমূলের প্রকৃত বিকল্প বামপন্থীরা। ধর্মীয় ফ্যাসিবাদী বিজেপি নয়। বিজেপি’ও ধনী-বৃহৎ জমি মালিকদের দল। হিন্দুত্বের আড়ালে দেশজুড়ে দাঙ্গার পরিকল্পনা বামপন্থীরাই রুখতে পারে। শ্রমিক কৃষকের ঝান্ডা লাল। সে রঙ বদলায়নি, বদলাবেও না। এই লাল ঝান্ডা হাতে নিয়েই আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি ময়দানে জমায়েত থেকে শপথ নিতে হবে এর পরবর্তী আরও বড় সংগ্রামের। সেই প্রতিবাদ হবে আরও শক্তিশালী, বর্তমান অবস্থাকে বদলে দেওয়ার শক্তি নিয়ে।"