এবার মাদ্রাসার হবু শিক্ষকরা বসল অনশনে। লাঠি চালালো পুলিশ।

১০দিক২৪ ব্যুরোঃ একর পর এক অনশন চলছে।এবার অনশনে বসলেন মাদ্রাসার হবু শিক্ষকরা। তবে দাবি একই। অনশন-কারীদের সাফ হুঁশিয়ারি দাবি মানা না হলে উঠবে না অনশন। এসএসসির অনশনে গুরুত্ব দিলেও তাদের বিষয়টি নজর এড়িয়ে গেছে সরকারের। বৃহস্পতিবার এমনটাই জানিয়েছেন তারা।তাদের দাবি, এসএসসির অনশন-কারীরা যেখানে অনশনে বসেছেন সেখান থেকে কিছুটা দূরে তারাও অনশনে বসেছেন। বুধবার মুখ্যমন্ত্রী এসএসসির অনশন-কারীদের কাছে এলেও তাদের কাছে এলেন না। তারা বিগত কয়েক বছর ধরে বিভিন্নভাবে আন্দোলন করেছেন, কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী তাদের দিকে নজর দিচ্ছেন না।তাদের অভিযোগ – মাদ্রাসাগুলিতে শূন্যপদ থাকা সত্বেও পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের নিয়োগ করা হচ্ছে না
কিন্তু নিয়োগ হয়েছে মাত্র ২০০০ এর কাছাকাছি।কিন্তু তা হয়নি। যারা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন তাঁদের আর তালিকা ভুক্ত করা হয়নি। ফলে বঞ্চিত হচ্ছেন মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের চাকরি প্রার্থীরা।অনশনরত এক আন্দোলনকারীর দাবি, ” এই কয়েক বছরে মাদ্রাসায় পড়ুয়ার সংখ্যা বেড়েছে।কিন্তু সেই অনুপাতে তৈরি হয়নি শিক্ষকদের শূন্য পদ। এখনও পর্যন্ত যারা পরীক্ষায় পাশ করেছে তাদের অবিলম্বে চাকরী দিতে হবে। “২৯ দিনের এসএসসি অনশন শেষ হওয়ার এখনও ২৪ ঘণ্টাও পেরোয়নি। তার আগেই অন্য এক হবু শিক্ষকদের সংগঠনের অনশনে পুলিশি মারধরের অভিযোগ উঠল শুক্রবার ভোরে। অনশন-কারীদের দাবি, ভোর পাঁচটায় প্রায় ১৫০ অনশন-কারীকে ছত্রভঙ্গ করে পুলিশ। চালানো হয় লাঠি, মারা হয় লাথি। তিন জন অনশন-কারী জখম হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। তাঁদের গ্রেফতারও করেছে পুলিশ এক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। যদিও পুলিশের দাবি, অনশন-কারীদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে কেবল। কোনও মারধর হয়নি।

এসএসসি অনশনের ২৮তম দিনে, অর্থাৎ বুধবার, প্রেস ক্লাবের সামনেই অনশনে বসেন মাদ্রাসার ১৫০ জন হবু শিক্ষক। তাঁদের দাবি, তাঁরা মাদ্রাসা স্কুল সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষায় পাশ করে বসে আছেন বছরের পর বছর। অনশন-কারীদের প্রতিনিধি লিলুফা হক জানান, চার বছর ধরে ১৮৪ জন পাশ করা চাকরি-প্রার্থী আইনি লড়াই লড়ছেন।সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের তরফে একটি অন্তর্বর্তী রায়ও দেওয়া হয়েছে, যাতে বলা হয় ২০১৩ সালে যত জন পরীক্ষার্থী মাদ্রাসা স্কুল সার্ভিস কমিশনে পাশ করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে থেকে প্যানেল মেনে ২৬০০ শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে মাদ্রাসাগুলিতে। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরেও কোনও হেলদোল নেই মাদ্রাসা কমিশনের। কমিশনের চেয়ারম্যান আবদুর রউফকে তাঁরা একাধিক বার সমস্যার কথা জানিয়েও সুরাহা পাননি। আবদুর রউফ অনশনের দ্বিতীয় দিনে অর্থাৎ বৃহস্পতিবার সন্ধেয় অনশন-কারীদের সঙ্গে দেখা করেন।মুহূর্তে পাশ করেও চাকরি না পাওয়া তরুণ-তরুণীর সংখ্যা ৬০০ জন। যেখানে ২৬০০ জনকে নিয়োগের আইনি নির্দেশ রয়েছে, সেখানে তাঁরা বঞ্চিত হচ্ছেন। মাদ্রাসা স্কুলগুলিতেও শিক্ষকের অভাবে পঠনপাঠন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই অবস্থায়, চাকরির দাবিতে আমরণ অনশনে বসেছিলেন তাঁরা।

অনশন-কারীদের অভিযোগ, আজ অনশনের তৃতীয় দিনে, ভোর পাঁচটায় আচমকা পুলিশ আসে। সঙ্গে সাদা পোশাকের বেশ কিছু মানুষ। তাঁরা এসেই অনশন-কারীদের ফোন কেড়ে নেন বলে অভিযোগ। এর পরেই এলোপাথাড়ি লাঠির বাড়ি পরে অনেকের গায়ে-মাথায়। ওই অনশন মঞ্চে মেয়েরাও ছিলেন। সকলেই শ্রান্ত হয়ে ঘুমোচ্ছিলেন অত ভোরে। সেই সুযোগে ঘটে যাওয়া এই পুলিশি হামলার তীব্র নিন্দা করেন অনশন-কারীরা।তাঁদের দাবি, ২০-২৫ জন চাকরি-প্রার্থী আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে পিজি হাসপাতালের এমার্জেন্সি বিভাগে ভর্তি করতে হয়েছে মনিরুল ইসলাম নামের এক তরুণকে। মিজানুর রহমান এবং মনোজ চক্রবর্তীও মার খেয়ে হাসপাতালে ভর্তি। এই তিন জনকেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ।যদিও ডিসি সাউথ মীরাজ খলিদকে এই হামলার বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি। তিনি বলেন, “নির্দেশ অনুযায়ী অনশনকারীদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কোনও লাঠি চালানো হয়নি, কোনও মারধর করা হয়নি কাউকে।”হঠাৎই শান্তিপূর্ণ অনশনে কেন লাঠি চালালো পুলিশ?উঠছে প্রশ্ন।কার নির্দেশ লাঠি চালালো পুলিশ এ নিয়েও উঠছে প্রশ্ন?