বাড়িতে বিদ্যুৎ ছিলোনা শুধু স্বপ্ন ছিলো। তাতে ভর করেই নবম স্থানাধিকার নিশার।

গতকাল সকালে যখন মেধাতালিকা ঘোষণা করা হয় "কলকাতা থেকে নবম নিশা যাদব" আমাদের অনেকেরই তখন হয়ত মনে হয়েছিলো কলকাতার মেয়ে মানে বেশ ঐশ্বর্যশালী কোনো পরিবারের মেয়েই নিশ্চয়ই এবার কলকাতার মান রাখলো।

কিন্তু রাজ্যের নবম হওয়া মেয়েটির বাবা বিদ্যুতের বিল মেটাতে না পারার কারণে সন্ধ্যার পর ঘন অন্ধকারেই রাত কাটাতে হয়ে এই কলকাতা আলো করা মেয়েটিকে।হত দরিদ্র পরিবারের মেয়ে নিশা বলে সে বিকেলের আগে পর্যন্ত পড়াশোনা করতো কারণ সন্ধের পর বাড়িতে কোনো আলোর ব্যবস্থা ছিলো না।

আমরা সবাই মধ্যবিত্ত এবং উচ্চবিত্ত মেধাবীদের মুখে শুনেছি যে তাঁরা অনেকেই রাত্রি পর্যন্ত পড়তো। কিন্তু একবেলা পরেই রাজ্যে নবম স্থান পেয়েছে নিশা। টালিগঞ্জের অন্ধ্র এসোসিয়েশন হাই স্কুলের এই ছাত্রীটি কলকাতা শহরের ছোটো একটি বস্তির বাসিন্দা।

 


রেজাল্ট বেরোনোর পর নিশা নিজের রেজাল্ট টাও দেখতে পায়নি মোবাইলে নেট না থাকার কারণে।এক বন্ধু ফোন করে নিশাকে বলে তোর নাম টিভিতে মেধাতালিকায় বলছে।এরপর নিশা দৌড়ে যায় স্কুলে খবর টা নিতে।কোনো গৃহ শিক্ষক ছাড়া এই রেজাল্ট করে ঐ দরিদ্র বাবার মেয়েটি। তবে নিশা বলে তাঁকে সাহায্য করতো তার দিদি,সে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে মাস্টার্স করছে।নিশা কে যখন জিজ্ঞাসা করা হয় "তুমি পড়াশোনার এত উৎসাহ কার কাছ থেকে পাও" তখন মেধাবী ছাত্রীর উত্তর "আমার বাড়ির খড়ের ব্যবসা, তাই দাদু বলে আমরা সারা জীবন মাথায় খড় বয়েছি।তোরা মন দিয়ে লেখাপড়া কর আর এমন রেজাল্ট করতে হবে যাতে বাড়িতে রিপোর্টার আসে" আজ নিশার সাথে সাথে নিশার দাদুরও স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।যে বাড়িতে আলো নেই সেই বাড়ি আজ ক্যামেরার ঝলকানির আলোতে আলোকিত।