ভাগাড়ের মাংসের গোডাউনের খোঁজ ডোমজুড়ে। চাঞ্চল্যকর খবর।

এতদিনে ভাগাড়ের মাংসের ভয় কিছুটা হলেও কমেছিল মানুষের। তবে আতঙ্ক কাটতে না কাটতেই আবার হদিশ মিলল ভাগাড়ের মাংসের আরেক গোডাউনের। প্রথম থেকেই যত তদন্ত এগিয়েছে ততই সামনে আসছে ভাগাড়ের মাংস-চক্রের জাল। ভাগাড়ে পড়ে থাকা মৃত পশুর মাংস কেটে বিক্রি করা যে দু’চার জনের কাজ নয়, দিনে দিনে তা আগেই স্পষ্ট হয়েছিল। আর এখন এই গোডাউনের আবিষ্কারের ফলে রিতিমত চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। হাওয়ার ডোমজুড়ের পাকুড়িয়াতে সি আই ডি তদন্তকারী অফিসাররা এদিন আবিষ্কার করেন এই গোডাউন। জানা গেছে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে সংগৃহীত মারা প্রাণী এখানেই মজুত রাখা হত। পুলিশ উদ্ধার করেছে একটি হিসেবের খাতা, যেখান থেকে রোজ কতগুলি মরা প্রাণী এখানে আনা হত তার হিসেব মিলেছে।

 


অনেক দিন ধরেই পুলিশ এই গোডাউনের সন্ধানে ছিল। এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছে রাতে এবং দিনের বেলায় অনেক লরি ভর্তি করে অনেক কিছু আনা হত এই গোডাউনে। অনেক জঞ্জাল ফেলার গাড়ি ও আনা হত এখানে। বাসিন্দারা ধারণা করছেন ভাগাড় থেকেই হয়ত মাংস আসতো এখানে। ইকবাল নামক এক ব্যক্তি এই কারখানার মালিক বলে জানা গেছে। মরা প্রাণী থেকে যাতে পচা গন্ধ না ছড়ায় তার জন্য সুগন্দী ব্যবহার করা হত। এই মাংস কাটিয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হত বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন দোকানে। তার ব্যবসা এটাটাই ফুলে ফেঁপে উঠেছিল যে কারখানা সংলগ্ন কিছু জমি ও কিনে নেয় সে।

জানা যাচ্ছে রাজ্য এবং দেশের সীমানা ছাড়িয়ে পচা, ভাগাড়-মাংস পৌঁছে যেত প্রতিবেশী দেশ নেপাল এবং বাংলাদেশেও। তদন্তকারীদের দাবি—ঐ দুটি দেশে মাংসের চাহিদার জন্যই পচা মাংস ব্যবসার বাড়বাড়ন্ত হয়েছে এই রাজ্যে।

 

 


কিছুদিন আগেই লালবাজারসূত্রে জানানো হয়েছিল কীভাবে সকলের চোখের সামনেই ডালপালা মেলেছিল পচা ও ভাগাড়ের মাংসের ব্যবসা। রাজাবাজার ও নারকেলডাঙ্গা এলাকায় বরফকল বলে পরিচিত এলাকায় রয়েছে বহু কোল্ড স্টোরেজ। যার একেকটিতে রাখা হয় মাছ-মাংস-আইসক্রিম-চিপসসহ বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য। এরমধ্যে হিন্দুস্তান আইস অ্যান্ড কোল্ড স্টোরেজকেই বেছে নিয়েছিল মৃত পশুর মাংস পাচারকারীর দল। বরফকল সূত্রে জানানো হয়েছে, মাছ রাখা হবে বলে ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আসলে সেখানে রাখা হতো মৃত পশুর মাংস। তবে আবার এই ঘটনায় নতুন করে মানুষের মনে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

 

 

পড়ুনঃ স্ত্রী নিজের চোখে দেখলেন – কুমিরের মুখে তার স্বামীর দেহ !