লাল ঝাণ্ডা কে বলিষ্ঠ কাঁধে তুলে নিতে চায় কাকদ্বীপের শহীদ পরিবারের ছেলেদীপঙ্কর।

১০দিক২৪ ব্যুরোঃ  ভোট মানে গণতন্ত্রের উৎসব। যেখানে জনগণ ভোট দানের মাধ্যমে বেঁছে নেন আগামী ৫ বছরের জনপ্রতিনিধি। কিন্তু ভোট যে এত ভয়ানক বিপদ ও ডেকে আনতে পারে তা জানা থাকলে ও উপলব্ধি করা যায়নি। রাজ্যের বুকে পঞ্চায়েত নির্বাচনের শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে গভীর রাতে নিজের ঘরের মধ্যেই ঘুমন্ত অবস্থায় জীবন্ত পুড়িয়ে মারার অভিযোগ ওঠে স্থানীয় সিপিএম কর্মী দেবপ্রসাদ দাস ও ঊষা দাসকে।

ঘটনায় অভিযোগের আঙুল ওঠে স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের দিকে। কিন্তু সিপিএমের সেই অভিযোগ মানতে চায়নি শাসক দলের নেতারা। এমনকি পুলিশের তরফ থেকেও এই আগুনে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ মানতে চাওয়া হয়নি। প্রাথমিক ভাবে পুলিশ ও শাসক দলের দাবী ছিল শট সার্কিট অথবা গ্যাস সিলেন্ডার ফেটে দুর্ঘটনার জেরে মৃত্যু হয়েছে ওই সিপিএম কর্মী দম্পতির। কিন্তু এ বিষয়ে সঠিক তদন্ত ও বিচার চেয়ে ওই পোড়া দেহ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দফতরের সামনে ধর্না দেওয়ার জন্য কাকদ্বীপ থেকে মৃতদেহ নিয়ে রওনা দেন বাম নেতারা। পথে ডায়মন্ড হারবার থানার পুলিশ মৃতদেহ ছিনিয়ে নেয় বাম নেতাদের কাছ থেকে। এরপর বাবা মায়ের মৃতদেহ ফেরত চেয়ে হাইকোর্টের কাছে আবেদন করেন নিহতের ছেলে দীপঙ্কর দাস। অবশেষে শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা নাগাদ সেই মৃতদেহ ডায়মন্ড হারবার পুলিশের তরফ থেকে তুলে দেওয়া হয় দীপঙ্করের হাতে।

এর পর অনেক জল গড়িয়ে গেছে গঙ্গা দিয়ে কিন্তু 'ইনসাফ' এখন ও মেলেনি। দীপঙ্করের বাবা কাজ করতেন দিনমজুরের আর করতেন বাম সংগঠন। অনেক কষ্ট করে লেখা পড়ার খরচ যোগার করতে হত দেবপ্রসাদ বাবু কে। তাই তাদের খুনের পর লড়াই ছাড়েনি দীপঙ্কর।  বাবা মা শুধু না ঘর ও হারাতে হয়েছে দিপঙ্কর কে। বর্তমানে ইতিহাস অনার্স নিয়ে পরছে সে। বাবা মা হারানোর মানসিক যন্ত্রণা কে বুকে নিয়েও প্রকাশিত পার্ট ২ এর রেজাল্টে ৫৯ % নম্বর পেয়েছে কাকদ্বিপের সুন্দরবন মহাবিদ্যালয়ের ছাত্র দীপঙ্কর।

বাবা মায়ের ইচ্ছে ছিল দীপঙ্কর জীবনে কিছু করুক, ভালো মানুষ হোক। সেই পথেই এগিয়ে যেতে চায় দিপঙ্কর। তবে দিপঙ্কর জানায় শুধু পড়াশুনা না বাবা মায়ের হাতে থাকা লাল ঝাণ্ডা কে বলিষ্ঠ কাঁধে তুলে নিতে চায় সে।

নিহতের ছেলে দীপঙ্কর দাস দশজনের বিরুদ্ধে কাকদ্বীপ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশের তরফ থেকে পিটিয়ে খুন ও আগুনে পুড়িয়ে তথ্য প্রমান লোপাটের মত ৩০২/৪৩৬/২০১ ও ৩৪ ধারায় মামলা রজু করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে কেস টি কোর্টে উঠতে বলে জানা যাচ্ছে।